৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ১:০২ শুক্রবার গ্রীষ্মকাল
রাজধানীর উত্তরায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের নাগরিক সমস্যা সমাধানের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ জয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে, উত্তরা এলাকার দীর্ঘদিনের অভিশাপ ‘জলাবদ্ধতা’ নিরসনকেই সবার আগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একইসঙ্গে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে উত্তরায় একটি সরকারি হাসপাতাল নির্মাণেরও ঘোষণা দেন তিনি।
মঙ্গলবার (গতকাল) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উত্তরার আজমপুর ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গাজীপুর ও ময়মনসিংহে জনসভা শেষ করে তিনি গভীর রাতে উত্তরার এই সমাবেশে যোগ দেন।

স্থানীয় সমস্যা ও উন্নয়নের রূপরেখা
বক্তৃতায় তারেক রহমান কেবল রাজনৈতিক বুলি না আউড়ে স্থানীয় সমস্যাগুলোর গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, উত্তরায় জলাবদ্ধতার কারণে মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট পেলে ইনশা আল্লাহ সবার আগে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করবে।
এছাড়াও তিনি গ্যাস সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মাসের পর মাস বিল পরিশোধ করেও গ্যাস না পাওয়া উত্তরাবাসীর এক পুরোনো অভিযোগ। অতীতে নতুন গ্যাসকূপ অনুসন্ধানে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, এই সংকট কাটাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং নতুন কলকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। স্বাস্থ্যখাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, উত্তরায় সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি হাসপাতালের অভাব রয়েছে। ধানের শীষ বিজয়ী হলে এই অভাব পূরণ করা হবে।
জুলাই অভ্যুত্থান ও স্বজনহারাদের প্রতি সহমর্মিতা
সমাবেশমঞ্চের পাশেই গত দেড় দশকের শাসনামলে গুম ও খুনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘গত ১৬-১৭ বছর ধরে যারা রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার রক্ষার সংগ্রামে নিজেদের পরিবার হারিয়েছেন, তাদের ত্যাগের সাক্ষী আপনারা সবাই।’
তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনকে ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এই অভ্যুত্থান সফল করতে উত্তরার ছাত্র-জনতার ভূমিকা ছিল অপরিসীম, যা ইতিহাসে সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে।
গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষা
রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই পরিবর্তনকে ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো স্বৈরাচারী শক্তি মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সেজন্য গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে কথা বলার স্বাধীনতা ও ভোটাধিকারের শক্ত ভিত্তি।’
নির্বাচনী প্রচারণায় পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ির সংস্কৃতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগার মানুষের কোনো উপকারে আসে না। বরং এখন সময় ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করার—কীভাবে মানুষের সমস্যার প্রকৃত সমাধান করা যায়।
পানির সংকট ও বেকারত্ব নিরসন
তারেক রহমান দেশের পানিসংকট ও বেকারত্ব নিয়ে তার দলের ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উজানে বাঁধ নির্মাণ এবং দেশের নদী-নালা শুকিয়ে যাওয়াই পানিকষ্টের মূল কারণ। এর সমাধানে বিএনপি সারা দেশে ‘খাল খনন কর্মসূচি’ হাতে নিয়েছে।
তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে লাখ লাখ শিক্ষিত ও অশিক্ষিত তরুণ বেকার। গত দেড় যুগে মানুষ কেবল উন্নয়নের গল্প শুনেছে, কিন্তু সমস্যার সমাধান পায়নি। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যমে একটি প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
Analysis | Habibur Rahman