
দীর্ঘদিন ধরে মূল্যবৃদ্ধির চাপে থাকা এলপি গ্যাস ব্যবহারকারীদের জন্য অবশেষে এলো কিছুটা স্বস্তির খবর। জুন মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, সংক্ষেপে বিইআরসি।
মঙ্গলবার নতুন মূল্য ঘোষণা করে সংস্থাটি জানায়, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৫ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা। যা আগে ছিল ১ হাজার ৯৪০ টাকা। নতুন এই মূল্য একই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
শুধু গৃহস্থালি ব্যবহারের গ্যাসই নয়, কমেছে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের মূল্য ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা।
তবে এই মূল্যহ্রাসের খবরের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির ইতিহাসও। চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা করা হয়েছিল। এর মাত্র ১৭ দিন আগেও ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৭২৭ টাকা। ফলে কয়েক দফা বৃদ্ধির পর এবার কিছুটা কমানো হলেও অনেক ভোক্তার মতে, দাম এখনো আগের তুলনায় বেশ উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে।
বাংলাদেশে রান্নার কাজে এলপিজি ব্যবহারকারী পরিবারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে শহর ও মফস্বল এলাকায় পাইপলাইনের গ্যাস না থাকায় লাখো পরিবার সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। তাই এলপিজির দামের প্রতিটি পরিবর্তন সরাসরি প্রভাব ফেলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের ওপর।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য ওঠানামা এবং আমদানি ব্যয়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই দেশে এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়। ফলে আগামী মাসগুলোতেও আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে গ্যাসের নতুন মূল্য।
এদিকে নতুন দাম ঘোষণার পর অনেকেই আশা করছেন, শুধু এলপিজি নয়, অন্যান্য জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরবে। তবে সেই প্রত্যাশা কতটা বাস্তবে রূপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এক কথায়, জুন মাসের শুরুতেই এলপিজি ব্যবহারকারীদের জন্য এলো স্বস্তির বার্তা। ১২ কেজি সিলিন্ডারে ৫৫ টাকা কমলেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা— জ্বালানির বাজারে এই স্বস্তি যেন আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়।