
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতের সংখ্যা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
জাতিসংঘের প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হওয়ার যে তথ্য দেওয়া হয়েছিল, সেটিকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘অত্যন্ত ভুল’ বলে দাবি করেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইনি দল।
সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।
লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্সের আইনজীবী স্টিভেন পাউলেস, শেখ হাসিনার পক্ষে এই চিঠি পাঠান।
চিঠিতে দাবি করা হয়, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হওয়ার তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বরং বাংলাদেশের সরকারি নথি এবং অন্যান্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী এই সংখ্যা অনেক কম।
আইনি দলের বক্তব্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রকাশিত সরকারি গেজেটে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহত বা ‘শহীদ’ হিসেবে ৮৩৪ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নিজস্ব হিসাবেও নিহতের সংখ্যা প্রায় ৬৫০ জন বলা হয়েছিল।
এই তথ্যগুলো তুলে ধরে শেখ হাসিনার আইনজীবীরা বলছেন, জাতিসংঘের ১ হাজার ৪০০ জন নিহতের দাবি অতিরঞ্জিত এবং বিভ্রান্তিকর।
চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, এই সংখ্যা রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।
শেখ হাসিনাকে গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে উপস্থাপন করা এবং তার সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর জন্য এই তথ্য প্রচার করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তর তাদের প্রতিবেদনে বলেছিল, মাত্র ৪৬ দিনের আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং অধিকাংশ মৃত্যুর জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিকে দায়ী করা হয়েছিল।
সেই প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা শুরু হয়।
এদিকে শেখ হাসিনার আইনি দল জাতিসংঘের তদন্ত প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
তাদের দাবি, তদন্তটি এমন একটি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিচালিত হয়েছে, যেখানে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সুযোগ রয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় এই চিঠির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—
জুলাই আন্দোলনে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা কত ছিল?
জাতিসংঘের তথ্য, নাকি সরকারি গেজেটের তথ্য— কোনটি বাস্তবতার কাছাকাছি?
একদিকে জাতিসংঘের প্রতিবেদন, অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আইনি দলের চ্যালেঞ্জ—
এই বিতর্ক এখন শুধু সংখ্যার নয়, বরং ইতিহাস, রাজনীতি এবং জবাবদিহিতার প্রশ্নেও পরিণত হয়েছে।