বিশ্বজুড়ে যখন ইসরায়েলকে ঘিরে সমালোচনা বাড়ছে, ঠিক তখনই নতুন এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
তার অভিযোগ— সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলবিরোধী জনমত তৈরি করতে পাকিস্তান “বট বাহিনী” ব্যবহার করছে।
সম্প্রতি পশ্চিম তীরে এক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলের নৈতিক ও রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ভারতে এখনো দেশটির প্রতি সমর্থন “অবিশ্বাস্য রকমের”।
তিনি বলেন,
“বিশ্বের অনেক জায়গায় আমরা বিরূপ মনোভাবের মুখোমুখি হচ্ছি, কিন্তু ভারতে নয়। ভারতে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন সত্যিই অবিশ্বাস্য।”
শুধু তাই নয়, নিজের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার পেছনেও সামাজিক মাধ্যমে পাকিস্তানের কার্যক্রমকে দায়ী করেন তিনি।
তার দাবি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে অনলাইন প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে।
নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য এমন সময় এলো, যখন আন্তর্জাতিক জরিপগুলোতে ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব বাড়ার তথ্য সামনে আসছে।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন।
আর নেতানিয়াহুর ওপর আস্থা নেই বলেও জানিয়েছেন অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক।
তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতের প্রতি আলাদা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন,
“ভারতের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক অনন্য।”
এর আগে ২০১৮ সালে ভারত সফরের স্মৃতিচারণ করে নেতানিয়াহু সেটিকে “ভালোবাসার উৎসব” বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি দাবি করেন, বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় ভারত থেকেই তার সবচেয়ে বেশি অনুসারী রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে নয়, বরং বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক মেরুকরণেরও একটি প্রতিচ্ছবি।
বিশেষ করে গাজা যুদ্ধ, ফিলিস্তিন ইস্যু এবং মুসলিম বিশ্বের প্রতিক্রিয়া ঘিরে আন্তর্জাতিক জনমত এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বিভক্ত।
অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন,
জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার দায় “বট বাহিনী” বা বিদেশি প্রোপাগান্ডার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে নেতানিয়াহু অভ্যন্তরীণ সমালোচনা থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা করছেন।
এখন প্রশ্ন হলো—
সামাজিক মাধ্যমে জনমত তৈরিতে সত্যিই কি রাষ্ট্রগুলো গোপনে ডিজিটাল বাহিনী ব্যবহার করছে?
নাকি এটি কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ?