ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফিরছিলেন ৯ বন্ধু।
স্বপ্ন ছিল পরিবারের সঙ্গে কয়েকটা সুখের দিন কাটানোর।
কিন্তু মাত্র ১৮০০ টাকা বাঁচানোর সিদ্ধান্তই হয়ে উঠলো তাদের জীবনের শেষ যাত্রা।
টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর পূর্বপাড়ে ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনায় একসঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার ৯ তরুণ।
এই ঘটনায় মোট নিহত হয়েছেন ১৫ জন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।
জানা গেছে, তারা সবাই নোয়াখালীতে কাজ করতেন।
ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার জন্য বাসে উঠতে গেলে বেশি ভাড়া দাবি করা হয়।
প্রায় ১৮০০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া এড়াতেই তারা একটি রডবোঝাই ট্রাকে উঠে বসেন।
কিন্তু সেই সামান্য টাকা বাঁচানোর সিদ্ধান্তই কেড়ে নেয় তাদের জীবন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নোয়াখালী থেকে আসা ট্রাকটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যমুনা সেতুর পূর্ব পাশে পৌঁছালে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়।
মুহূর্তেই ঘটনাস্থলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে রক্ত, কান্না আর আর্তনাদ।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—
তারেক, আব্দুল বারেক, বাদশা, সোহাগ, রবিউল, সাগর, মইনুর ইসলাম, মাইনুল এবং গিয়াস।
তারা সবাই নওগাঁর মান্দা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।
নিহত তারেকের বাবা সুলতান হোসেনের কণ্ঠে এখন শুধু আহাজারি।
তিনি জানান, তার ছেলে ও বন্ধুরা নোয়াখালীতে ফেরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
মানুষের ফেলে দেওয়া চুল, ভাঙা মোবাইল আর ছোট খেলনা বিক্রি করেই চলতো তাদের জীবন।
ঈদে বাড়ি ফেরার আনন্দে তারা একসঙ্গে রওনা দিয়েছিল।
কিন্তু পরিবারের কাছে আর জীবিত ফেরা হলো না।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো মান্দা উপজেলায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
একই এলাকার ৯ তরুণকে হারিয়ে স্তব্ধ হয়ে গেছে গ্রামগুলো।
কারও একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে, কারও ভাই, কারও আবার শৈশবের বন্ধু— সবাই একসঙ্গে হারিয়ে গেল।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—
অতিরিক্ত ভাড়া আর ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা কি এখনও মানুষের জীবন কেড়ে নিতেই থাকবে?
বিশ্লেষকদের মতে, ঈদকে কেন্দ্র করে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া, যাত্রী দুর্ভোগ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবহন ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এমন দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
একটি ছোট সিদ্ধান্ত…
মাত্র ১৮০০ টাকা বাঁচানোর চেষ্টা…
আর তাতেই নিভে গেল ৯টি তরুণ প্রাণ।