
বাংলাদেশের অনেক তরুণের মতোই বড় স্বপ্ন ছিল মৌলভীবাজারের তরুণ মুহিবুর রহমানের। উচ্চশিক্ষা অর্জন করে নিজের জীবন বদলানো, পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করা—এই লক্ষ্য নিয়েই তিনি দেশ ছাড়েন। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথই তাকে ঠেলে দেয় এক ভয়ংকর বাস্তবতায়, যার শেষ হয় যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।
Moulvibazar জেলার সদর উপজেলার আমতৈল ইউনিয়নের সম্পদপুর গ্রামের বাসিন্দা মুহিবুর প্রথমে পাড়ি জমান Mexico-তে। উদ্দেশ্য ছিল উচ্চশিক্ষা। কিন্তু হঠাৎ করেই তার ভিসা বাতিল হয়ে যায়। অচেনা দেশে অনিশ্চয়তা, আর্থিক চাপ—সব মিলিয়ে কঠিন এক পরিস্থিতিতে পড়ে যান তিনি।
এই দুর্বল সময়টাকেই কাজে লাগায় দালাল চক্র। তারা তাকে প্রলোভন দেখায়—Russia-এর হয়ে যুদ্ধে অংশ নিলে পাওয়া যাবে ভালো বেতন, এমনকি যুদ্ধ শেষে নাগরিকত্বের সুযোগও। ভবিষ্যতের আশায় সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান মুহিবুর।
রাশিয়ায় গিয়ে তিনি সামরিক প্রশিক্ষণ নেন এবং পরে তাকে পাঠানো হয় Ukraine-এর বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে। বাস্তবতা তখন আর স্বপ্নের মতো ছিল না—ছিল কেবল অনিশ্চয়তা, ঝুঁকি আর মৃত্যুর ভয়।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, একটি বাঙ্কারে অবস্থান করার সময় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় সেটি বিধ্বস্ত হয়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান মুহিবুর। যদিও তার মৃত্যু হয় প্রায় এক সপ্তাহ আগে, পরিবারের কাছে খবর পৌঁছায় পরে—রাশিয়ান সেনাদের জন্য খাবার সরবরাহকারী এক ব্যক্তির মাধ্যমে।
এই সংবাদ পাওয়ার পর পরিবার ভেঙে পড়ে। তাদের নীরবতা যেন সব কথা বলে দেয়—একটি স্বপ্নের মৃত্যু, একটি পরিবারের ভরসার শেষ।
মুহিবুরের গল্প শুধু একজন মানুষের করুণ পরিণতি নয়। এটি একটি বাস্তবতা তুলে ধরে—কীভাবে আর্থিক সংকট, বিদেশে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং দালাল চক্রের প্রতারণা মিলিয়ে অনেক তরুণকে বিপজ্জনক পথে ঠেলে দিচ্ছে।
আজকের বিশ্বে সুযোগ যেমন বাড়ছে, তেমনি ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা তরুণদের জন্য এই ঘটনা একটি সতর্কবার্তা। শর্টকাটে সাফল্য খোঁজার চেষ্টা কখনো কখনো জীবনের সবচেয়ে বড় মূল্যটাই কেড়ে নিতে পারে।