
বগুড়ার গাবতলীতে এক জনসমাবেশে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman। তিনি বলেছেন, বিগত শাসনামলে পাচার হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে তা সরাসরি জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে, বিশেষ করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বাগবাড়ীর শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে—অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলোকে সরাসরি সহায়তা দেওয়া, যেখানে পরিবারের নারী সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, অতীতের স্বৈরাচারী শাসনামলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। সেই অর্থ পুনরুদ্ধার করে কৃষক ও সাধারণ জনগণের মাঝে বিতরণ করা হবে। তার ভাষায়, “এই টাকা জনগণের—এটা জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে।”
এছাড়াও স্বাস্থ্যখাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। অভিযোগ করেন, আগের সরকার ও অন্তর্বর্তী প্রশাসনের গাফিলতির কারণে শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় টিকা সরবরাহ করা হয়নি, যার ফলে বহু শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, ফলে বাংলাদেশকে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। এর প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নারী-পুরুষ সমতার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। দেশের উন্নয়নে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, সরকার উভয় লিঙ্গকে সমানভাবে সহযোগিতা করবে।
উল্লেখ্য, গত ১০ মার্চ পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হয়। বর্তমানে এর দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে, যেখানে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এটি দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, পাচার হওয়া অর্থ কতটা ফেরত আনা সম্ভব এবং তা কত দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছাবে।