.
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান বৈঠকের সম্ভাবনা ঘিরে পাকিস্তানে জোর প্রস্তুতি

Email :1

মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক রাজনীতির উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার বৈঠককে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে জোর প্রস্তুতির খবর পাওয়া গেছে। দেশটির নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-কে জানিয়েছে, আগামী শুক্রবারের আগেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে তারা ধারণা করছে।

সূত্রগুলোর মতে, সাম্প্রতিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ভিত্তিতে এই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ‘সি-১৭ গ্লোবমাস্টার’ কার্গো বিমানের অবতরণ। সাধারণত এ ধরনের সামরিক পরিবহন বিমান উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বা নিরাপত্তা কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে থাকে, যা সম্ভাব্য বৈঠকের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়।

শুধু তাই নয়, ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক এলাকা ‘রেড জোন’-এ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে ওই অঞ্চলে যাওয়ার সড়কগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, যা বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের ব্যবস্থা সাধারণত উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক বৈঠক বা গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরের সময় নেওয়া হয়।

অন্যদিকে, রাজধানীর বিলাসবহুল Serena Hotel Islamabad এবং Islamabad Marriott Hotel-এও অস্বাভাবিক কার্যক্রম লক্ষ্য করা গেছে। সূত্র জানিয়েছে, এসব হোটেল থেকে অতিথিদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং আগামী শুক্রবার পর্যন্ত নতুন বুকিং গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভাব্য বৈঠকের জন্য নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে চলা ওই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। বরং বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা বেড়ে যায়।

তবে কূটনৈতিক মহলের ধারণা, চলমান উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানসহ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী দেশ আবারও সংলাপের পরিবেশ তৈরি করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। এই প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার বৈঠক শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, ইসলামাবাদ এখন এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যেখানে বিশ্বরাজনীতির পরবর্তী বড় সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হতে পারে।

Related Tag:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts