.
রাজনীতি

‘তিনটি মন্ত্রণালয়কে অন্তত দুর্নীতিমুক্ত রাখতেই আমরা সরকার ছাড়িনি’: বিএনপির প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমিরের পাল্টা যুক্তি

Email :21

৯ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২৩শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৩রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৫:৪৬ সোমবার বসন্তকাল

২০০১-২০০৬ মেয়াদের জোট সরকারে থাকা নিয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্কের কড়া জবাব দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেছেন, তৎকালীন সরকারে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা মন্ত্রিত্ব আঁকড়ে ধরেছিলেন ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং অন্তত তিনটি মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতির গ্রাস থেকে রক্ষা করার জন্য।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা-১২ আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী সাইফুল আলম খানের সমর্থনে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা-১২ আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী সাইফুল আলম খানের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারেছবি: জামায়াতের ফেসবুক পেজ থেকে।

পুরনো জোট সঙ্গীর প্রতি ইঙ্গিত
সম্প্রতি ময়মনসিংহে এক নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রশ্ন তোলেন, বিএনপি সরকার যদি দুর্নীতিগ্রস্তই হতো, তবে জামায়াতের দুই মন্ত্রী কেন তখন পদত্যাগ করেননি? তারেক রহমানের সেই মন্তব্যের জের ধরেই আজ মুখ খুললেন জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘আমাদের কোনো কোনো রাজনৈতিক বন্ধু এখন প্রশ্ন তুলছেন—আমরা যদি এতটাই সৎ হই, আর তারা যদি অসৎই থাকেন, তবে কেন আমরা সেই সরকার ছেড়ে আসিনি? আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা সরকার ছেড়ে যাইনি একটি মহৎ উদ্দেশ্যে। আমরা চেয়েছিলাম, অন্তত আমাদের দায়িত্বে থাকা তিনটি মন্ত্রণালয় যেন বেঁচে যায় এবং দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা পায়।’’

তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী এবং সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু কেউ কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে যে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ ছিল? তাঁদের সততার কারণেই ওই মন্ত্রণালয়গুলো কলঙ্কমুক্ত ছিল।

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি
নির্বাচনী ইশতেহার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, রাজনীতি আর চাঁদাবাজি একসাথে চলতে পারে না। কেউ যদি চাঁদাবাজ হয়, তবে তাকে রাজনীতিক বলা সাজে না।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল শুধু ক্ষমতার পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য। অথচ আজ বাজপাখির মতো কালো রূপ ধরে একদল লোক চাঁদাবাজি, দখলবাজি আর মামলাবাজিতে লিপ্ত হয়েছে। এরা কৃষক, পরিবহন মালিক এবং ব্যবসায়ীদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে।’’

তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ১১-দলীয় ঐক্য যদি রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পায়, তবে নির্বাচনের পরদিন অর্থাৎ ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই দেশের দৃশ্যপট পাল্টে যাবে। তিনি বলেন, ‘‘আল্লাহর সাহায্যে ৯০ ভাগ চাঁদাবাজের হাত আমরা অবশ করে দেব। বাকি ১০ ভাগকে সতর্ক করা হবে। এরপরও না শুধরালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাঁদাবাজ কার ভাই বা কার সন্তান—তা দেখার সময় আমাদের নেই।’’

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করার পাঁয়তারা চলছে। বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী ক্যাম্প পোড়ানো হচ্ছে, কর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে, এমনকি মা-বোনদের গায়েও হাত তোলা হচ্ছে।

তিনি নির্বাচন কমিশন ও বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‘জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে কার্যকর পদক্ষেপ নিন। গায়ে পড়ে ঝগড়া বাধানোর সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন, তবে সেই দায়ভার আপনাদেরই নিতে হবে।’’

প্রতিপক্ষের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা মুখে গণতন্ত্রের বুলি আওড়ান, তারা যেন বাস্তবেও গণতান্ত্রিক আচরণ করেন এবং অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হন।

দাঁড়িপাল্লায় ভোট প্রার্থনা
সমাবেশ শেষে জামায়াত আমির ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী সাইফুল আলম খানের হাতে জোটের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ তুলে দেন এবং উপস্থিত জনতার কাছে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

জনসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ, ডাকসু ভিপি মো. আবু সাদিক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তরের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts