১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১০:১৪ সোমবার বসন্তকাল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ওপর থেকে আইনি জটিলতার মেঘ কেটে গেছে। ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক তার মনোনয়নপত্র বাতিলের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে তাকে দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার জন্য কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। এর ফলে এই বিএনপি নেতার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আইনি লড়াই
নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করেছিলেন। তবে, একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের করেন।
সেই আপিলের শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল বলে ঘোষণা করে। ইসির এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং নিজের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আর্জি জানিয়ে পরদিন ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন সারোয়ার আলমগীর।
মঙ্গলবার রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে রুল জারি করেন এবং সারোয়ার আলমগীরকে প্রতীক বরাদ্দের নির্দেশ দেন।
আইনজীবীদের বক্তব্য
আদালতে আজ সারোয়ার আলমগীরের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও আইনজীবী মো. রুহুল কুদ্দুস। অন্যদিকে অভিযোগকারী প্রার্থী নুরুল আমিনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন ও এ এস এম শাহরিয়ার কবির। রাষ্ট্রপক্ষে নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিত্ব করেন আইনজীবী মো. রাজু মিয়া।
আদেশের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সারোয়ার আলমগীরের আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, “উচ্চ আদালত নির্বাচন কমিশনের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তটি স্থগিত করেছেন। একইসঙ্গে আদালত নির্দেশনা দিয়েছেন যেন সারোয়ার আলমগীরকে তার দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ বরাদ্দ দেওয়া হয়। আদালতের এই আদেশের ফলে আসন্ন নির্বাচনে তার অংশগ্রহণে আইনগত আর কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই।”
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী মো. রাজু মিয়া বলেন, “হাইকোর্ট রুল জারিসহ স্থগিতাদেশ এবং সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। আদালতের এই আদেশের ফলে সারোয়ার আলমগীর নির্বাচন করার সুযোগ পাচ্ছেন। আমরা এই আদেশের বিষয়টি দ্রুত নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করব এবং কমিশন এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”
উচ্চ আদালতের এই আদেশের ফলে চট্টগ্রাম-২ আসনে নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মোড় আসবে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
Analysis | Habibur Rahman