.
রাজনীতি

ঢাকায় জামায়াতের ঐতিহাসিক শোডাউন: সোহরাওয়ার্দীতে প্রথমবারের মতো বিশাল নারী সমাবেশের ঘোষণা

Email :29

৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ১:১৪ শুক্রবার গ্রীষ্মকাল

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আবহ এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই এক নজিরবিহীন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রাজধানী ঢাকায় বিশাল নারী সমাবেশের আয়োজন করতে যাচ্ছে দলটি। আগামী ৩১ জানুয়ারি ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের মহিলা বিভাগের উদ্যোগে এই ‘প্রতিবাদী সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হবে।

মূলত সারা দেশে নির্বাচনী প্রচারণাকালে জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর প্রতিপক্ষের হামলা, হুমকি ও হয়রানির প্রতিবাদে এই সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (আজ) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়েছবি: প্রথম আলো

কেন এই সমাবেশ?
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের মাঠ দখল করতে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলো, বিশেষ করে বিএনপি, জামায়াতের নারী কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “সারা দেশে আমাদের মহিলা বিভাগের কর্মীরা যখন নির্বাচনী প্রচারে নামছেন, তখন তাদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা চালানো হচ্ছে। বিএনপির লোকজন আমাদের কর্মীদের হাত-পা কেটে ফেলার এবং জিহ্বা কেটে নেওয়ার মতো ভয়ংকর হুমকি দিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, নারীদের ওপর এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির প্রতিবাদেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৩১ জানুয়ারি শক্তি প্রদর্শন করবে জামায়াতের মহিলা বিভাগ।

নারী ভোটার ও আরপিও প্রসঙ্গ
রাজনৈতিক দলে নারীদের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রচলিত ধারণা খণ্ডন করে সংবাদ সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন জামায়াতের নায়েবে আমির। তিনি বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী রাখার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, বাংলাদেশের দলগুলোর মধ্যে একমাত্র জামায়াতে ইসলামীই তা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে।

তাঁর মতে, জামায়াতে নারীদের অবমূল্যায়ন করা হয় বলে যে অপপ্রচার চালানো হয়, তা ভিত্তিহীন। বরং দেশের শান্তিকামী নারীরা উগ্রতা পছন্দ করেন না বলেই তারা জামায়াতকে বেশি সমর্থন করেন। তিনি দাবি করেন, “আমাদের নারী সমর্থক ও ভোটার সংখ্যা অনেক বেশি, যা নির্বাচনের মাঠে আমাদের প্রধান প্রতিপক্ষের ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারীদের এই জাগরণ দেখেই তারা দিশাহারা হয়ে হামলা চালাচ্ছে।”

হুঁশিয়ারি ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। যারা নারী স্বাধীনতা নিয়ে বড় বড় কথা বলেন, তারাই আজ রাজনৈতিক স্বার্থে নারীদের ওপর আক্রমণ করছেন। এই পরিস্থিতির লাগাম না টানলে এবং প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে, ৩১ জানুয়ারির সমাবেশের পর মহিলা বিভাগের পক্ষ থেকে আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে। একইসঙ্গে ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটও এ বিষয়ে রাজপথে কর্মসূচি দেবে বলে জানান তিনি।

উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ওলিউল্লাহ নোমান প্রমুখ।

জামায়াতের এই ঘোষণার ফলে ৩১ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী নেতাকর্মীদের এক বিশাল সমাগমের অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল, যা দলটির সাংগঠনিক সক্ষমতার এক নতুন বার্তা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts