১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ৬:৩৬ সোমবার বসন্তকাল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনী মাঠে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অনড় থাকায় টাঙ্গাইলে আবারও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এবার টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা আবদুল হালিমকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সোমবার (আজ) বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বহিষ্কারাদেশ নিশ্চিত করা হয়।

কেন এই বহিষ্কার?
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আবদুল হালিম কালিহাতী উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা এবং জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। আসন্ন নির্বাচনে তিনি ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে দল যাচাই-বাছাই শেষে এই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য লুৎফর রহমান মতিনকে দলীয় মনোনয়ন প্রদান করে।
কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে আবদুল হালিম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন এবং ‘মোটরসাইকেল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। দলের পক্ষ থেকে একাধিকবার তাকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন। ফলশ্রুতিতে, দলীয় গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের দায়ে তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে আজীবন বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় হাইকমান্ড।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, “দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণে আবদুল হালিমকে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি পদসহ বিএনপির সকল পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।”
টাঙ্গাইলে বিদ্রোহ দমনে বিএনপির কঠোর বার্তা
টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে বিএনপির এই কঠোর অবস্থান নতুন নয়। এর আগেও জেলার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আবদুল হালিমের আগে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন:
১. টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী): কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আলী।
২. টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল): সাবেক মন্ত্রী ও প্রভাবশালী নেতা লুৎফর রহমান খান (আজাদ)।
৩. টাঙ্গাইল-৫ (সদর): জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল।
কালিহাতীর এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, নির্বাচনের আগমুহূর্তে দলের চেইন অব কমান্ড বা শৃঙ্খলা ভেঙে কেউ ছাড় পাবে না।
প্রার্থীর প্রতিক্রিয়া
বহিষ্কারাদেশের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে আবদুল হালিমের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি কল রিসিভ না করায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে, আবদুল হালিমের বহিষ্কারের খবরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও, মূলধারার নেতাকর্মীরা দলীয় সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
Analysis | Habibur Rahman