৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১লা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৩:৪৯ শনিবার বসন্তকাল
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর্দা উঠতে বাকি আর মাত্র সপ্তাহ দুয়েক। সাধারণ সমীকরণে এই সময়ে দলের পরিকল্পনা, প্রতিপক্ষ বিশ্লেষণ কিংবা কন্ডিশন নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণে ব্যস্ত থাকার কথা অধিনায়কের। অথচ বাংলাদেশ দলের চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। দল ঘোষণা হয়ে গেলেও খোদ অধিনায়ক লিটন দাসই জানেন না, তারা আদৌ বিশ্বকাপ খেলতে বিমানে উঠবেন কি না। আর যদি খেলেনও, সেই ভেন্যু কি ভারত নাকি শ্রীলঙ্কা—তা নিয়েও রয়েছে চরম ধোঁয়াশা।

বিপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচে সিলেট টাইটানসের কাছে হেরে রংপুর রাইডার্সের বিদায়ের পর মিরপুরের সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন লিটন। সেখানে ম্যাচের হারের চেয়েও বড় হয়ে উঠল আসন্ন বিশ্বকাপ প্রসঙ্গ। সেখানেই স্পষ্ট হয়ে উঠল জাতীয় দলের অধিনায়কের অসহায়ত্ব ও অনিশ্চয়তা।
যোগাযোগের অভাব ও অধিনায়কের পাল্টা প্রশ্ন
বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিকল্পনা কী, তা নিয়ে অধিনায়কের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে লিটনের উত্তর ছিল এক শব্দের, ‘না’। এমনকি এই বিষয়ে আলোচনা হওয়া উচিত ছিল কি না, তা নিয়েও কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি। বরং সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক বলেন, ‘আপনি কি নিশ্চিত আমরা বিশ্বকাপ খেলব?’
লিটনের এই একটি প্রশ্নেই পরিষ্কার হয়ে যায় দেশের ক্রিকেটের বর্তমান পরিস্থিতি। বোর্ডের সঙ্গে দলের সমন্বয়হীনতা যে প্রকট আকার ধারণ করেছে, তা লিটনের কথায় স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে কথা হয়নি। আমি জানি না।’
ভারত না শ্রীলঙ্কা: ভেন্যু নিয়ে জটিলতা
গত দুই সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ এবং ভেন্যু বিতর্ক। মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে বিসিবি ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। বোর্ড চাইছে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কার মাটিতে হোক। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো ঝুলে আছে।
এই পরিস্থিতির সঙ্গে একমত কি না, তা নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি লিটন। তবে পরিস্থিতি যে মোটেও আদর্শ নয়, তা মেনে নিয়ে তিনি দার্শনিক ভঙ্গিতে বলেন, ‘জীবনে অনেক কিছুই আদর্শ নয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে চলে এলে ওটাকে গ্রহণ করে নিতে হবে।’
প্রস্তুতি ও মানসিক অস্থিরতা
গত এক বছর ধরে টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন লিটন দাস। তার অধীনে বাংলাদেশ টানা পাঁচটি সিরিজ জিতেছে। বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখেই তিনি কিছু ক্রিকেটারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং দল গুছিয়েছিলেন। কিন্তু টুর্নামেন্টের ঠিক আগমুহূর্তে এই অনিশ্চয়তা পুরো দলের মানসিক অবস্থায় প্রভাব ফেলছে।
লিটনের কণ্ঠে আক্ষেপ ঝরে পড়ে, ‘যদি আপনি জানতেন যে আপনার গ্রুপে কে থাকবে, আপনি কোন দেশে যাচ্ছেন, এটা সাহায্য করত। এখন যে জিনিসটা হাতেই নেই… আপনারা তো এর মধ্যেই দল জানেন যে কোন ১৫ জন যাবে। সেই ১৫ জনও এখনো জানে না যে আমরা কোন দেশে যাব বা কাদের বিপক্ষে খেলব।’
লিটন আরও যোগ করেন, ‘আমার জায়গা থেকে আমি যেমন অনিশ্চয়তায় আছি, সবাই অনিশ্চয়তায়। আমার মনে হয়, এই মুহূর্তে পুরো বাংলাদেশই অনিশ্চিত।’ তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই দোলাচলের মাঝেও ক্রিকেটাররা বিপিএলের মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেই খেলার মধ্যে রয়েছেন।
উইকেট নিয়ে অসন্তোষ
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বকাপের পাশাপাশি উঠে আসে বিপিএলের প্রসঙ্গও। এলিমিনেটর ম্যাচে আগে ব্যাট করে রংপুর রাইডার্স নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ১১১ রান সংগ্রহ করে। শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে সেই রান টপকে যায় সিলেট। প্লে-অফের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এমন উইকেট দেখে হতাশ লিটন।
মিরপুরের উইকেট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘টি-টোয়েন্টির জন্য এটা আদর্শ উইকেট নয়, আমি এটুকু বলতে পারি। বিশ্বকাপের জন্য আদর্শ কি না, এটা আমি জানি না। তবে প্লে–অফের ম্যাচে আরও ভালো উইকেট আশা করছিলাম।’
সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়লেও বাংলাদেশ দল এখনো অনিশ্চয়তার চোরাবালিতে আটকে আছে। অধিনায়কের কথায় স্পষ্ট, মাঠের খেলার চেয়ে মাঠের বাইরের সিদ্ধান্তহীনতাই এখন দলের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ।
Analysis | Habibur Rahman