১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সন্ধ্যা ৭:১৯ সোমবার বসন্তকাল
ইসলামপন্থীদের ভোট এক বাক্সে আনার লক্ষ্য নিয়ে গঠিত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে বড় ফাটল ধরেছে। জোটের অন্যতম শরিক এবং চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে জোট ছেড়েছে। তবে এই ভাঙনকে নেতিবাচক হিসেবে না দেখে বরং নিজেদের রাজনৈতিক হিস্যা আদায়ের সুযোগ হিসেবে দেখছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির নেতারা মনে করছেন, ইসলামী আন্দোলনের বিদায়ে ভোটের মাঠে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না, বরং জোটের ভেতরে এনসিপির আসন সংখ্যা বাড়ানোর পথ প্রশস্ত হয়েছে।

ফাঁকা আসনে এনসিপির নজর
গত বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১০টি দল ২৫৩টি আসনে সমঝোতার ঘোষণা দেয়। সে সময় কৌশলগত কারণে ৪৭টি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছিল, যার বড় একটি অংশ ইসলামী আন্দোলনের জন্য বরাদ্দ ছিল বলে জানা গেছে। তবে শুক্রবার বিকেলে ইসলামী আন্দোলন জানিয়ে দেয়, তারা জোটগতভাবে নয়, বরং ২৬৮টি আসনে এককভাবে প্রার্থী দেবে।
এই ঘোষণার পরপরই নড়েচড়ে বসেছে এনসিপি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জোটগত সমঝোতায় এনসিপিকে প্রাথমিকভাবে ৩০টি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে দলটির প্রত্যাশা ছিল ৩৫ থেকে ৪০টি আসন। এ লক্ষ্যেই তারা ৪৭টি আসনে দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিল। এখন যেহেতু ইসলামী আন্দোলনের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৫০টি আসন ফাঁকা হয়ে গেছে, তাই এনসিপি সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নতুন করে দরকষাকষি শুরু করেছে। দলটি আশা করছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের ভাগে আরও ১০ থেকে ১৫টি আসন যোগ হতে পারে।
জরুরি সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিক্রিয়া
ইসলামী আন্দোলনের জোট ত্যাগের ঘোষণার পর শুক্রবার রাতেই রাজধানীর জিগাতলায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। সেখানে দলের অবস্থান পরিষ্কার করেন এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলনের জন্য ঐক্যের দরজা আমরা এখনো খোলা রেখেছি। আমরা আশাবাদী তারা ফিরে আসবে। তবে বাস্তবতা হলো, নির্বাচনের মাঠে আমাদের প্রস্তুতি থেমে থাকবে না।’
অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলনের বেরিয়ে যাওয়াকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ আখ্যা দিলেও এতে খুব একটা বিচলিত নয় এনসিপি। এ বিষয়ে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি ও যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, ‘তারা ঐক্যে না থাকলে ভোটে তেমন কোনো বড় প্রভাব পড়বে বলে আমরা মনে করি না। বরং তারা চলে যাওয়ায় শূন্য হওয়া আসনগুলোতে এনসিপির প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে জোটের প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে।’
ভোটের সমীকরণ ও ভবিষ্যৎ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামপন্থী দলগুলোকে নিয়ে একটি ‘ব্রড অ্যালায়েন্স’ বা বৃহৎ মোর্চা গঠনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, ইসলামী আন্দোলনের সরে যাওয়ায় তা কিছুটা হোঁচট খেল। এর ফলে ইসলামপন্থীদের ভোট এখন তিন ভাগে বিভক্ত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এনসিপির মতো নতুন দলগুলো এই সুযোগে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং সংসদে প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
এনসিপির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, ইসলামী আন্দোলনের শূন্যস্থান পূরণ করতে হলে জোটের অন্য শরিকদের, বিশেষ করে এনসিপিকে আরও বেশি আসনে ছাড় দেওয়া প্রয়োজন। আগামী দু-একদিনের মধ্যেই আসন ভাগাভাগির এই নতুন সমীকরণ চূড়ান্ত হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
Analysis | Habibur Rahman