.
আন্তর্জাতিক

যুদ্ধ–আতঙ্কের অবসান? ৫ ঘণ্টা পর আকাশপথ উন্মুক্ত করল তেহরান

Email :45

৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৩:৩১ শুক্রবার গ্রীষ্মকাল

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চরম সামরিক উত্তেজনার জেরে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর অবশেষে নিজেদের আকাশসীমা আবারও খুলে দিয়েছে ইরান। গতকাল বুধবার বিকেলে আকস্মিকভাবে আকাশপথ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল তেহরান, যা বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি করে। তবে রাতে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ইরান তাদের আকাশসীমায় বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, বিশেষ অনুমতিপ্রাপ্ত ফ্লাইট ব্যতীত অন্য কোনো আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ ইরানের আকাশ ব্যবহার করতে পারবে না।

তবে ‘ফ্লাইটরাডার ২৪’-এর পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, একই দিন রাত ১০টার (যুক্তরাষ্ট্রের সময়) কিছু আগে তেহরান এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। আকাশসীমা খোলার পরপরই ইরানের অভ্যন্তরীণ এভিয়েশন খাতে স্বস্তি ফিরে আসে। রাডারের তথ্যে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞা ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই মাহান এয়ার, ইয়াজদ এয়ারওয়েজ এবং আভা এয়ারলাইনসের মতো স্থানীয় সংস্থাগুলোর অন্তত পাঁচটি ফ্লাইট আকাশে ডানা মেলেছে।

কেন এই আকস্মিক অচলাবস্থা?
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের ভয়। ইরানে চলমান অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে ওয়াশিংটন হামলা চালাতে পারে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই তেহরান তড়িঘড়ি করে আকাশসীমা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। দেশটির সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় (হাই অ্যালার্ট) রাখা হয়েছিল।

তেহরান স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের ওপর কোনো ধরনের আগ্রাসন চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্র দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোও নিরাপদ থাকবে না। সেখানেও পাল্টা হামলা চালানো হবে। এই হুমকির পরপরই ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যের কিছু ঘাঁটি থেকে নিজেদের কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

বিশ্বজুড়ে ফ্লাইটে বিপর্যয়
মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য আকাশপথ বন্ধ থাকলেও এর প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সংযোগকারী অন্যতম প্রধান রুট ইরানের আকাশসীমা। ফলে লুফথানসা, এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিগোর মতো বড় বড় এয়ারলাইনসগুলো আগেই ইরানের আকাশ এড়িয়ে চলার ঘোষণা দিয়েছিল। বুধবারের এই পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞার ফলে অসংখ্য আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সময়সূচি তছনছ হয়ে যায়, বাতিল হয় বহু ফ্লাইট এবং দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হয় উড়োজাহাজগুলো।

বর্তমান পরিস্থিতি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ ‘নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে এবং ভয়ের কোনো কারণ নেই। তবে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে যে জট তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts