১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৫:৪৭ সোমবার বসন্তকাল
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছেন। অভিবাসনবিরোধী কট্টর অবস্থান থেকে সরে আসেননি তিনি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে। এই তালিকায় অপরাধী সন্দেহে থাকা ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও বিশেষায়িত পেশার কর্মীরাও রয়েছেন।

ভিসা বাতিলের পরিসংখ্যান ও কারণ
পররাষ্ট্র দপ্তরের উপমুখপাত্র টমি পিগট নিশ্চিত করেছেন যে, ভিসা বাতিলের হার ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ১৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাতিল হওয়া ১ লাখ ভিসার মধ্যে প্রায় ৮ হাজার জন শিক্ষার্থী এবং ২ হাজার ৫০০ জন বিশেষায়িত পেশাজীবী (Skilled Workers) রয়েছেন।
প্রশাসন এই কঠোর পদক্ষেপের পেছনে চারটি মূল কারণ উল্লেখ করেছে:
১. ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করা।
২. মদ্যপ বা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো (DUI)।
৩. বিভিন্ন ধরনের হামলা বা মারামারিতে জড়িত থাকা।
৪. চুরির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।
পিগট আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকায় যাদের নাম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে রয়েছে, তাদের ভিসাও দ্রুত বাতিল করা হচ্ছে। তবে সব ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি।
কন্টিনিউয়াস ভেটিং সেন্টার চালু
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অভিবাসন প্রক্রিয়া সীমিত করতে ট্রাম্প প্রশাসন একটি নতুন বিভাগ চালু করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘কন্টিনিউয়াস ভেটিং সেন্টার’ বা সার্বক্ষণিক যাচাই কেন্দ্র। এই কেন্দ্রের কাজ হলো যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সব বিদেশি নাগরিক আইন মেনে চলছেন কি না, তা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা। যারা মার্কিন নাগরিকদের জন্য হুমকি বলে বিবেচিত হবেন, তাদের ভিসা এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে বাতিল করা হবে।
রেকর্ডসংখ্যক বিতাড়ন
ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে, তারা এরই মধ্যে ২৫ লাখের বেশি মানুষকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দিয়েছে। এর মধ্যে কেউ স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করেছেন, আবার কাউকে জোরপূর্বক বিতাড়িত করা হয়েছে। প্রশাসন বিষয়টিকে ‘রেকর্ডভাঙা অর্জন’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখতে অপরাধীদের বিতাড়িত করার এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
Analysis | Habibur Rahman