.
রাজনীতি

ইসলামী জোটের ঐক্যে ফাটল ধরাতে মিডিয়ার ‘অপকৌশল’? আসন ভাগাভাগির গুঞ্জনের নেপথ্যে আসল সত্য

Email :48

১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৫:৪৭ সোমবার বসন্তকাল

দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের একটি সমীকরণ যখন বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই) এবং খেলাফত মজলিসসহ মোট আটটি সমমনা ইসলামী দল সম্প্রতি একটি শক্তিশালী জোট গঠন করেছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বহুদিন ধরেই এমন ধারণা ছিল যে, দেশের প্রধান ইসলামী শক্তিগুলো যদি এক ছাতার নিচে আসে, তবে ব্যালট বক্সে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করবে এই জোট। কিন্তু এই ঐক্যের খবর প্রকাশ্যে আসার পরপরই আসন ভাগাভাগি নিয়ে বিভিন্ন মূলধারার গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রচার হচ্ছে, সেটিকে ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ ও ‘বিভ্রান্তিকর প্রচারণা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জোটের নেতারা।


জোটের একাধিক সূত্র এবং শীর্ষ নেতাদের অভিযোগ, দেশের কিছু শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম—ইসলামী জোটের এই ঐক্যকে নস্যাৎ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, এই সংবাদমাধ্যমগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করছে। সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, শরিক দলগুলো জামায়াতে ইসলামীর কাছে কখনো ২০০ আবার কখনো ২৭০টি আসন দাবি করেছে। জোটের নেতাদের মতে, এই সাংঘর্ষিক তথ্যই প্রমাণ করে যে খবরগুলো মনগড়া এবং এর মূল লক্ষ্য হলো শরিকদের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করা এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা।

ভোট ব্যাংক সরানোর কৌশল
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জোটের নীতিনির্ধারকদের মতে, এই ধরনের নেতিবাচক প্রচারণার পেছনে একটি সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক খেলা কাজ করছে। সাধারণ মানুষ যখন দেখবে যে জোট গঠনের শুরুতেই দলগুলো আসন বা ক্ষমতা নিয়ে কামড়াকামড়ি করছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই জোটের ওপর থেকে তাদের আস্থা উঠে যাবে। ফলে যে বিশাল ভোট ব্যাংক এই জোটের পক্ষে আসার কথা ছিল, তা ডাইভার্ট হয়ে অন্য দলের দিকে চলে যেতে পারে। গণমাধ্যমগুলোর এই ‘অপকৌশল’ মূলত সাধারণ ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ মানসিকতায় ফাটল ধরানোর জন্যই করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

আসন ভাগাভাগি: গুজব বনাম বাস্তবতা
মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া আসন ভাগাভাগির খবরকে পুরোপুরি অসত্য বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জোটের অন্যতম নেতা রাশেদ প্রধান। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আট দলীয় এই জোটের মধ্যে এখন পর্যন্ত আসন বণ্টন বা কে কয়টি আসনে নির্বাচন করবে, তা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনাই হয়নি। তিনি বলেন, “যেখানে আলোচনাই শুরু হয়নি, সেখানে ২০০ বা ২৭০ আসনের দাবির প্রশ্নই আসে না।” জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে যখনই আসন নিয়ে কোনো সমঝোতা হবে, তা গোপন কোনো সূত্রের বরাতে নয়, বরং সংবাদ সম্মেলন বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সরাসরি জাতিকে জানানো হবে।

নির্বাচন পর্যন্ত অটুট থাকার অঙ্গীকার
বাইরের নানামুখী চাপ ও গুজব সত্ত্বেও এই আট দলীয় জোট আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত অটুট থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, জোটটি কেবল নির্বাচনী সমঝোতা নয়, বরং একটি প্রতীকেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি ভবিষ্যতে এই জোটে আরও সমমনা ইসলামী দল যুক্ত হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

এই রাজনৈতিক ঐক্যকে একটি মজবুত রশির সাথে তুলনা করে জোটের নেতারা বলছেন, রশির প্রতিটি সুতো বা দল আলাদাভাবে দুর্বল মনে হতে পারে, কিন্তু যখন তারা পাকিয়ে একটি রশিতে পরিণত হয়, তখন তা ছেঁড়া অসম্ভব। বাইরের কোনো শক্তি যদি গুজব ছড়িয়ে একটি সুতোকে আলাদা করার চেষ্টা করে তবেই বিপদ, কিন্তু দলগুলো যদি নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে, তবে কোনো অপপ্রচারই এই দুর্ভেদ্য ঐক্য ভাঙতে পারবে না।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts