.
রাজনীতি

জামায়াতের সঙ্গে জোট দ্বন্দ্বে ভাঙন এনসিপিতে: তাসনিম জারার পর এবার পদত্যাগ করলেন তাজনূভা জাবীন

Email :50

১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৫:৪৫ সোমবার বসন্তকাল

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরণের ধাক্কা খেল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী আসন সমঝোতা ও জোট বাঁধার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা-১৭ আসনের ঘোষিত প্রার্থী তাজনূভা জাবীন এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন।

তাজনূভা জাবীনছবি: তাজনূভার ফেসবুক থেকে নেওয়া

আজ রোববার (দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তাজনূভা জাবীন দলের সঙ্গে সব ধরণের সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দেন। এর মধ্য দিয়ে গত চার দিনের ব্যবধানে দলটির তিনজন শীর্ষ নেতা পদত্যাগ করলেন, যা নির্বাচনের আগ মুহূর্তে দলটিকে বড় ধরণের সাংগঠনিক সংকটে ফেলে দিয়েছে।

পদত্যাগের নেপথ্যে ‘প্রক্রিয়া’ ও ‘বিশ্বাসভঙ্গ’
তাজনূভা জাবীন তার ফেসবুক পোস্টে পদত্যাগের কারণ হিসেবে আদর্শিক মতবিরোধের চেয়েও ‘প্রক্রিয়াগত অস্বচ্ছতা’কে বেশি দায়ী করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, অনেকেই হয়তো মনে করছেন জামায়াতের সঙ্গে জোট বা ঐতিহাসিক ও নারী ইস্যুতে তার আপত্তি। কিন্তু তার মতে, ভয়ের কারণটি আরও গভীর।

ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, “আপনারা অনেকে ভাবছেন, হয়তো জামায়াতের সাথে জোটে ঐতিহাসিক কারণ বা নারী বিষয়ের কারণে আমার আপত্তি। এর চেয়েও ভয়ঙ্কর যে কারণ, সেটা হলো যে প্রক্রিয়ায় এটা হয়েছে। এটাকে রাজনৈতিক কৌশল, নির্বাচনী জোট ইত্যাদি লেভেল দেয়া হচ্ছে। আমি বলব এটা পরিকল্পিত। এটাকে সাজিয়ে এ পর্যন্ত আনা হয়েছে।”

তাজনূভা অভিযোগ করেন, দলের নীতিনির্ধারকরা সাধারণ কর্মী ও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের আবেগের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তিনি বলেন, “এটা আদর্শের চেয়েও অনেক বড়, সেটা হলো বিশ্বাস। মাত্র কিছুদিন আগে সমারোহে সারাদেশ থেকে মনোনয়ন সংগ্রহের ডাক দিয়ে ১২৫ জনকে মনোনয়ন দিয়ে ৩০ জনের জন্য সিট সমঝোতা করে বাকিদের নির্বাচন করতে দেয়া হবে না।”

ধারাবাহিক পদত্যাগ ও দলের সংকট
এনসিপির এই ভাঙন হঠাৎ শুরু হয়নি। জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর খবর চাউর হওয়ার পর থেকেই দলের একটি বড় অংশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছিল।

তাজনূভার পদত্যাগের মাত্র একদিন আগে, শনিবার সন্ধ্যায় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ও রাজনৈতিক পর্ষদের অন্যতম সদস্য তাসনিম জারা। তিনিও দলের বর্তমান গতিপথ নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছিলেন।

তারও আগে গত বৃহস্পতিবার দলটির আরেক প্রভাবশালী নেতা মীর আরশাদুল হক পদত্যাগ করেন। দলের ভেতরে তিনি জামায়াতবিরোধী অংশের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরপর তিনজন নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতার বিদায়ে এনসিপির সাধারণ কর্মীদের মধ্যেও চরম হতাশা ও বিভ্রান্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব
ঢাকা-১৭ আসনে তাজনূভা জাবীনকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিল এনসিপি। তার সরে দাঁড়ানোয় ওই আসনে দলটির নির্বাচনী পরিকল্পনা ভেস্তে গেল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতা করতে গিয়ে এনসিপি নিজেদের স্বকীয়তা ও দলের তরুণ এবং প্রগতিশীল অংশকে হারাচ্ছে। ১২৫ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীকে আশাহত করে মাত্র ৩০টি আসনে সমঝোতা করার সিদ্ধান্তটি দলের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে শীর্ষ নেতাদের এই প্রস্থান জাতীয় নাগরিক পার্টিকে অস্তিত্বের সংকটে ফেলবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts