৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১লা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি সন্ধ্যা ৬:১৫ রবিবার গ্রীষ্মকাল
জাতীয় রাজনীতির এক নাটকীয় পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের নেতৃত্বে বড় রদবদল হয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ ছেড়ে মো. রাশেদ খান বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর, শূন্য হওয়া সেই গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন হাসান আল মামুন। তাকে দলটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শনিবার (রাত) দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের এক জরুরি ভার্চ্যুয়াল সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

তৎপরতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ
রাশেদ খানের দল ত্যাগের পরপরই সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় গণঅধিকার পরিষদ। শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের ওই ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে দলের উচ্চতর পরিষদ, নির্বাহী কমিটি এবং বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানেরা সংযুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ আলোচনার পর দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা হাসান আল মামুনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে সবাই একমত পোষণ করেন।
দলের এই পালাবদল ও নতুন দায়িত্ব অর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ। তিনি জানান, দলীয় ফোরামে আলোচনার ভিত্তিতে আপাতত হাসান আল মামুনকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তাকে পূর্ণাঙ্গ সাধারণ সম্পাদক করা হবে কি না, তা দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তীতে ভোটাভুটির মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে।
রাশেদ খানের বিএনপিতে যোগদান ও নির্বাচনী ভাবনা
গণঅধিকার পরিষদের অন্যতম শীর্ষ নেতা মো. রাশেদ খান গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যেই তার এই দলবদল। তিনি ঝিনাইদহ-৪ সংসদীয় আসন থেকে বিএনপির দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার এই হঠাৎ দলত্যাগে গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক কাঠামোতে সাময়িক শূন্যতা তৈরি হলেও হাসান আল মামুনকে দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে তা পূরণের চেষ্টা করা হয়েছে।
কে এই হাসান আল মামুন?
ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়া হাসান আল মামুন তরুণ প্রজন্মের কাছে বেশ পরিচিত মুখ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী ২০১৮ সালের বহুল আলোচিত কোটা সংস্কার আন্দোলনের সম্মুখসারির নেতা ছিলেন। সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে গড়ে ওঠা সেই আন্দোলনে তিনি আহ্বায়কের ভূমিকা পালন করেন। ছাত্রনেতা থেকে মূলধারার রাজনীতিতে এসে এতদিন তিনি গণঅধিকার পরিষদের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। রাশেদ খানের বিদায়ের পর দলের হাল এখন তার হাতেই ন্যস্ত হলো।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে দলের সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে এই পরিবর্তন গণঅধিকার পরিষদের ভবিষ্যৎ কৌশল ও সাংগঠনিক শক্তিমত্তায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
Analysis | Habibur Rahman