.
আন্তর্জাতিক

‘একই রণাঙ্গনে রক্ত ঝরিয়ে’ রাশিয়ার সঙ্গে মৈত্রী অটুট রাখার ঘোষণা কিমের

Email :35

১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১০:১৯ সোমবার বসন্তকাল

ইউক্রেন যুদ্ধের ময়দানে রাশিয়ার সঙ্গে ‘রক্ত, জীবন ও মৃত্যু’ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মাধ্যমে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক এক অবিচ্ছেদ্য এবং সুদৃঢ় অবস্থানে পৌঁছেছে— এমনটাই ঘোষণা দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে পাঠানো নববর্ষের এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এই যুদ্ধের ময়দানে দুই দেশের যৌথ আত্মত্যাগের বিষয়টি আবেগঘন ভাষায় তুলে ধরেন।

এ বছর চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে দেখা হয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনেরছবি: রয়টার্স

শনিবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি’ (কেসিএনএ) কিমের এই বার্তাটি জনসমক্ষে প্রকাশ করে।

রক্তে লেখা নতুন অধ্যায়
২০২৫ সালকে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য একটি ‘অত্যন্ত অর্থবহ’ বছর হিসেবে অভিহিত করেছেন কিম জং উন। পুতিনের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, দুই দেশের এই মৈত্রী এখন আর কেবল কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইউক্রেন যুদ্ধে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করার মাধ্যমে এই সম্পর্ক রক্তের বন্ধনে রূপ নিয়েছে।

কিমের ভাষায়, ‘‘মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের এই সম্পর্ক বর্তমান সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে আগামী প্রজন্ম এবং তারপরও প্রজন্মান্তরে টিকে থাকার মতো এক অমূল্য সম্পদে পরিণত হয়েছে। দুই দেশের জনগণের এই ঐক্য ও সংহতিকে কোনো শক্তিই নষ্ট করতে পারবে না।’’

পুতিনের প্রশংসাসূচক বার্তা
এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন উত্তর কোরিয়ার নেতাকে নববর্ষের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। সেই বার্তায় পুতিন রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। রুশ ভূখণ্ড রক্ষায় এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীর মোকাবিলায় পিয়ংইয়ংয়ের সেনাদের ভূমিকা দুই দেশের সম্পর্ককে ‘অপরাজেয় বন্ধন’–এ পরিণত করেছে বলে মন্তব্য করেছিলেন পুতিন।

যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার প্রত্যক্ষ অবস্থান
পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থা এবং দক্ষিণ কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছিল যে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য হাজার হাজার সৈন্য পাঠিয়েছে উত্তর কোরিয়া। তবে চলতি বছরের (২০২৫) এপ্রিলে উত্তর কোরিয়া প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নেয় যে, তারা রাশিয়ার পক্ষে সৈন্য মোতায়েন করেছে।

সেই সময় পিয়ংইয়ং জানিয়েছিল, রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযানকে সমর্থন জানাতেই তাদের এই পদক্ষেপ এবং রণক্ষেত্রে তাদের সেনারা লড়াই করতে গিয়ে প্রাণও হারিয়েছে। কুরস্ক অঞ্চলে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের উপস্থিতির বিষয়টিও পরবর্তী সময়ে নিশ্চিত করা হয়।

কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, এ বছর চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে ভ্লাদিমির পুতিন এবং কিম জং উনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকের ধারাবাহিকতায় দুই দেশের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। নববর্ষের এই বার্তা আদান-প্রদান এবং যুদ্ধের ময়দানে ‘রক্তের সম্পর্কের’ ঘোষণা সেই জোটকে আরও শক্তিশালী করারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, রাশিয়া খাবারের বিনিময়ে উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র ও জনবল সহায়তা নিচ্ছে। তবে কিম জং উনের সাম্প্রতিক এই বার্তায় স্পষ্ট হয়েছে যে, এই সম্পর্ককে তিনি কেবল লেনদেনের ঊর্ধ্বে উঠে একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত এবং আবেগপূর্ণ মৈত্রী হিসেবেই দেখছেন।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts