.
রাজনীতি

নাটকীয় মোড় সীতাকুণ্ডের রাজনীতিতে: সালাউদ্দিনকে সরিয়ে ধানের শীষের চূড়ান্ত কাণ্ডারি আসলাম চৌধুরী

Email :51

১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৫:৪৯ সোমবার বসন্তকাল

নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও নগরীর আংশিক) আসনে বিএনপির রাজনীতিতে বড় ধরনের নাটকীয় পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনা ও অভ্যন্তরীণ উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে এই আসনে দলীয় প্রার্থী বদল করেছে বিএনপি। প্রাথমিকভাবে ঘোষিত প্রার্থী কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের পরিবর্তে বিএনপির হেভিওয়েট নেতা ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীফাইল ছবি

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের জলিল গেট এলাকায় নিজ বাসভবনে এক মতবিনিময় সভায় নেতাকর্মীদের সামনে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন আসলাম চৌধুরী নিজেই। এ সময় তিনি দলীয় চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি প্রদর্শন করেন।

মনোনয়ন ও নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস
শনিবার সকালে আসলাম চৌধুরীর বাড়িতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ঢল নামে। সেখানে আয়োজিত সভায় আসলাম চৌধুরী বলেন, ‘‘দলের হাইকমান্ড আমার ওপর আস্থা রেখেছে। এখন সময় সব বিভেদ ভুলে ধানের শীষের বিজয়ের জন্য কাজ করা।’’ তিনি তাঁর বক্তব্যে পূর্ববর্তী প্রার্থী কাজী সালাউদ্দিনের রাজনৈতিক অবদানের কথাও স্বীকার করেন। আসলাম চৌধুরী বলেন, ‘‘কাজী সালাউদ্দিন দলের একজন পরীক্ষিত নেতা। তিনি এতদিন ধানের শীষের পক্ষে জনমত তৈরিতে কাজ করেছেন। এখন তাঁকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।’’

প্রার্থী বদলের প্রেক্ষাপট ও অভ্যন্তরীণ সমীকরণ
গত ৩ নভেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চট্টগ্রাম-৪ আসনে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। এই ঘোষণার পর সীতাকুণ্ডের রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। সালাউদ্দিনের নাম ঘোষণার পরপরই আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে সোচ্চার হন তাঁরা। ওই সময় বিশৃঙ্খলার অভিযোগে আসলাম অনুসারী বেশ কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, সালাউদ্দিন ১৮ ডিসেম্বর নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন এবং তাঁর অনুসারীরা এলাকায় আনন্দ মিছিলও করেছিলেন। তবে শেষমেশ দলের হাইকমান্ড তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আসলাম চৌধুরীকেই বেছে নিল।

কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের নেপথ্যে
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থী পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছিল গত ২০ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিএনপির ৩০০ আসনের প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায়। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মো. মোরসালিন জানান, ওই প্রশিক্ষণে আসলাম চৌধুরী অংশ নিয়েছিলেন এবং সেদিনই তাঁকে মৌখিকভাবে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাঁকে লিখিতভাবে চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি পাঠানো হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান জানান, সীতাকুণ্ড আসনে কৌশলগত কারণে প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে এবং আসলাম চৌধুরীই এখন ধানের শীষের চূড়ান্ত প্রার্থী।

সালাউদ্দিন শিবিরের প্রতিক্রিয়া
প্রার্থী বদলের বিষয়ে কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর ভাই ও সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব কাজী মোহাম্মদ মহিউদ্দিন দলের সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘প্রার্থী পরিবর্তনের বিষয়টি শুনেছি। দল যাকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে, আমরা সবাই মিলে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষেই কাজ করব।’’

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, আসলাম চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়ার মাধ্যমে বিএনপি এই আসনে নিজেদের অবস্থান আরও সংহত করতে চাইছে। তবে নির্বাচনের মাঠে সালাউদ্দিনের অনুসারীদের তিনি কতটা সক্রিয় করতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts