.
রাজনীতি

নির্বাচনের খরচ জোগাতে জনগণের দুয়ারে সিপিবি নেতা: ‘রাজনীতি ব্যবসা নয়, দায়বদ্ধতার’

Email :33

১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৫:৪৭ সোমবার বসন্তকাল

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষে ঘনিয়ে আসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোটের মাঠে যেখানে কোটি টাকার ছড়াছড়ি আর বিত্তবৈভবের প্রদর্শনী সাধারণ ঘটনা, সেখানে স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে এক ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের প্রার্থী এমদাদুল হক। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) এই নেতা নির্বাচনের ব্যয়ভার বহনের জন্য হাত পেতেছেন সাধারণ মানুষের কাছে। তার মতে, রাজনীতি কোনো বিনিয়োগ বা ব্যবসার জায়গা নয়, বরং এটি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার এক চূড়ান্ত পরীক্ষা।

এমদাদুল হকছবি: সংগৃহীত

সিপিবির ময়মনসিংহ জেলা কমিটির সভাপতি এমদাদুল হক গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে নির্বাচনী তহবিলে আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুদানই সিপিবির চালিকাশক্তি।

ডিজিটাল মাধ্যমে গণচাঁদা সংগ্রহ
২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও দলীয় প্রতীকে লড়েছিলেন এমদাদুল হক। সেবারও তিনি জনগণের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার তিনি অনুদান সংগ্রহের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, “সাধারণ মানুষের সহায়তা নিয়ে সিপিবি পথ চলে। নির্বাচনী তহবিলে আপনার সহযোগিতা চাই। যার যা সাধ্য, সেটুকু আমরা গ্রহণ করব সম্মানের সাথে।”

এমদাদুল হক জানান, বুধবার দুপুরের পর থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষ প্রায় ১২ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা করে এই অনুদান আসছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, গতবারের তুলনায় এবার মানুষের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে। এবারের নির্বাচনে তিনি মোট ১২ লাখ টাকা ব্যয়ের বাজেট নির্ধারণ করেছেন।

কেন এই গণচাঁদা?
নির্বাচনী তহবিলের জন্য জনগণের কাছে যাওয়ার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এমদাদুল হক বলেন, রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রার্থীরা নির্বাচনকে ‘বিনিয়োগ’ হিসেবে দেখেন। কোটি টাকা খরচ করে নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের মূল লক্ষ্য থাকে সেই টাকা সুদ-আসলে তুলে নেওয়া।

তিনি বলেন, “আমি যদি কোটি টাকা খরচ করে নির্বাচন করি, তবে আমার উদ্দেশ্যই থাকবে সেখান থেকে লাভ করা। কিন্তু আমরা রাজনীতিকে ব্যবসা মনে করি না। আমি চাই, নির্বাচনের খরচ আমি ব্যক্তিগতভাবে, আমার দলের শুভানুধ্যায়ীরা এবং সাধারণ জনগণ বহন করুক। জনগণ যখন তাদের কষ্টে উপার্জিত টাকা দিয়ে আমাকে নির্বাচনে পাঠাবে, তখন আমার জবাবদিহি থাকবে কেবল তাদেরই কাছে। তখন আর লাভ খোঁজার বা দুর্নীতি করার মানসিকতা তৈরি হবে না।”

অতীত অভিজ্ঞতা ও প্রস্তুতি
এমদাদুল হক দীর্ঘদিন ধরে বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯৯ সালে তিনি ময়মনসিংহ পৌরসভার চেয়ারম্যান পদেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বুধবার তিনি সদর উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এরই মধ্যে স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া
এমদাদুল হকের এই আহ্বানে ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছেন নেটিজেন ও সাধারণ ভোটাররা। তার ফেসবুক পোস্টের নিচে আতাউর রহমান খান নামের এক ব্যক্তি মন্তব্য করেন, ধনিক শ্রেণির প্রার্থীরা বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে নির্বাচনের বৈতরণী পার হন এবং পরবর্তীতে সাধারণ মানুষকে শোষণের মাধ্যমে সেই অর্থ তুলে নেন।

ওই মন্তব্যে আরও বলা হয়, “গরিব শ্রেণির দলগুলোকে টাকার অভাবে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা হয়। এবার সময় এসেছে সাধারণ মানুষের নিজেদের পকেট থেকে খরচ করে নিজেদের প্রতিনিধিকে সংসদে পাঠানোর। নেপাল ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোর দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে সমাজতন্ত্র অভিমুখী বাম গণতান্ত্রিক সরকার গঠনে আমাদের এগিয়ে আসা উচিত।”

রাজনীতিতে কালো টাকার দাপট কমাতে এবং স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এমদাদুল হকের মতো প্রপার্থীদের এই ‘গণচাঁদা’র উদ্যোগ একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts