১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি রাত ৯:২০ সোমবার বসন্তকাল
নতুন বছরের শুরুতেই রাজধানীতে বড় ধরনের শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আগামী ৩ জানুয়ারি (শুক্রবার) ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে বিশাল মহাসমাবেশ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং দেশব্যাপী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবিতে এই কর্মসূচি পালিত হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেবল একটি সাধারণ সমাবেশ নয়, বরং এই কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির জানান দিতে চায় জামায়াত। এজন্য ঢাকা ও এর আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকে কয়েক লাখ নেতাকর্মী ও সমর্থক জড়ো করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে দলটি।

কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে মহাসমাবেশ
সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই মহাসমাবেশের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিশেষ করে শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।
বাস্তবায়নে উচ্চপর্যায়ের কমিটি
মহাসমাবেশ সফল করতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী ‘সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। এই মূল কমিটির অধীনে আরও একাধিক সাব-কমিটি কাজ করছে। জানা গেছে, লজিস্টিক সাপোর্ট, প্রচার-প্রচারণা এবং লোকসমাগম নিশ্চিত করতে কমিটিগুলো ইতোমধ্যে কয়েক দফা বৈঠক করেছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে নেতাকর্মীদের ঢাকায় আনার জন্য সাংগঠনিক নির্দেশনাও পাঠানো হচ্ছে।
দাবিসমূহ
জামায়াতের এই মহাসমাবেশের মূল এজেন্ডা মূলত তিনটি:
১. ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার।
২. দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার।
৩. চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা।
যা বলছেন নেতারা
বিষয়টি নিশ্চিত করে জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, ৩ জানুয়ারি ঢাকায় মহাসমাবেশ করার বিষয়টি চূড়ান্ত। শরিফ ওসমানের খুনিদের বিচার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবিতেই এই কর্মসূচি। খুব শীঘ্রই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অথবা প্রেস রিলিজের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, তারা ঢাকায় একটি বড় জমায়েতের পরিকল্পনা করছেন। শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার চাওয়ার পাশাপাশি জননিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। মানিক মিয়া এভিনিউতে জনস্রোত তৈরি করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচন এবং দেশের সংস্কার কার্যক্রমের চলমান পরিস্থিতির মধ্যে জামায়াতের এই মহাসমাবেশ রাজনীতির মাঠে নতুন উত্তাপ ছড়াতে পারে। মানিক মিয়া এভিনিউয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সমাবেশের ডাক দেওয়া দলটির আত্মবিশ্বাসেরই বহিঃপ্রকাশ।
Analysis | Habibur Rahman
