.
আন্তর্জাতিক

মদিনার মিনার আর প্রকম্পিত হবে না তাঁর আজানে: মসজিদে নববীর মুয়াজ্জিন শেখ ফয়সাল নোমানের চিরবিদায়

Email :43

১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ১২:০৮ সোমবার বসন্তকাল

বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মদিনাতুল মুনাওয়ারার পবিত্র মসজিদে নববীর অন্যতম প্রবীণ ও সুমধুর কণ্ঠের অধিকারী মুয়াজ্জিন শেখ ফয়সাল নোমান মহান প্রভুর ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে যিনি রাসুল (সা.)-এর রওজা মোবারকের পাশে দাঁড়িয়ে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা দিতেন, তাঁর সেই কণ্ঠস্বর আজ চিরতরের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল।

হারামাইন শরিফাইনের সংবাদ প্রচারকারী নির্ভরযোগ্য মাধ্যম ‘ইনসাইড দ্য হারামাইন’ তাদের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এই শোকাবহ সংবাদটি নিশ্চিত করেছে।

জানাজা ও দাফন
পবিত্র নগরী মদিনায় মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ফজরের নামাজের পর মসজিদে নববীতেই মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। যে মসজিদে তিনি দীর্ঘকাল আজান দিয়েছেন, সেখানেই শেষবারের মতো তাঁর জানাজায় শরিক হন অসংখ্য মুসল্লি ও আলেম-ওলামারা। জানাজা শেষে ইসলামের ইতিহাসের সাক্ষী ‘জান্নাতুল বাকি’ কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। রাসুল (সা.)-এর সাহাবী ও আহলে বাইতের সদস্যদের স্মৃতিবিজড়িত এই কবরস্থানেই তিনি এখন শায়িত।

বংশপরম্পরায় আজানের ঐতিহ্য
শেখ ফয়সাল নোমান শুধুমাত্র একজন মুয়াজ্জিনই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন এক ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের ধারক। মসজিদে নববীতে আজান দেওয়া তাঁর পরিবারের এক অনন্য গৌরবময় অধ্যায়। জানা যায়, তাঁর দাদা একসময় এই পবিত্র মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর বাবাও মাত্র ১৪ বছর বয়সে এই সম্মানিত পদে নিযুক্ত হন। পূর্বসূরিদের সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই শেখ ফয়সাল নোমান মদিনার মিনারে নিজের নাম ও কণ্ঠস্বরকে যুক্ত করেছিলেন।

দীর্ঘ ২৫ বছরের খেদমত
১৪২২ হিজরিতে (২০০১ খ্রিস্টাব্দ) মসজিদে নববীর মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োগ পান শেখ ফয়সাল নোমান। সেই থেকে ১৪৪৭ হিজরি পর্যন্ত—প্রায় ২৫ বছর বা সিকি শতাব্দী ধরে তিনি পরম নিষ্ঠা ও ভালোবাসার সাথে এই দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। হজ ও ওমরাহ পালন করতে যাওয়া বিশ্বের লাখো মুসল্লি তাঁর সুমধুর আজানে বিমোহিত হয়েছেন। তাঁর আজানের ধ্বনি মুসল্লিদের হৃদয়ে এক আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ছড়িয়ে দিত।

তাঁর এই মৃত্যুতে মসজিদে নববী হারাল এক নিবেদিতপ্রাণ খাদেমকে। মদিনাবাসী এবং বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তাঁর মাগফিরাত কামনায় মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করছেন। তাঁর এই দীর্ঘ খেদমত এবং রাসুল (সা.)-এর মসজিদের প্রতি ভালোবাসা তাঁকে মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসে স্মরণীয় করে রাখবে।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts