১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ১২:০৮ সোমবার বসন্তকাল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মাথায় রাজধানীতে সম্ভাব্য প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদীর ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ১৮ দলীয় জোট ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট’ (এনডিএফ)। জোটের সভাপতি ও জাতীয় পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ প্রশ্ন তুলেছেন—প্রকাশ্য দিবালোকে যদি প্রার্থীর ওপর গুলি চলে, তবে সাধারণ ভোটার ও অন্য প্রার্থীদের নিরাপত্তা কোথায়?

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার ইতিহাসের সেরা নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র ভিন্ন। তফসিল ঘোষণার পরদিনই ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদীকে গুলি করা হলো। তিনি এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। এমতাবস্থায় প্রার্থীরা কীভাবে নির্ভয়ে প্রচারণা চালাবেন বা নির্বাচনে অংশ নেবেন? লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তো দূরের কথা, প্রার্থীদের জীবনেরই নিরাপত্তা নেই।’
জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মব জাস্টিস অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন। তাঁর মতে, প্রশাসন নিরপেক্ষ না হলে এবং প্রার্থীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রশাসনে এখন দলীয়করণ ও ভাগাভাগি চলছে, বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। জুলাই আন্দোলনের স্পিরিট রক্ষা করতে হলে প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ হতে হবে, অন্যথায় ইতিহাসের মূল্যায়নে তারা ব্যর্থ হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে এনডিএফের মুখপাত্র এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই সারা দেশে ১ হাজার ৯৩১ জন খুনের শিকার হয়েছেন। ওসমান হাদীর ওপর হামলা সেই চরম নিরাপত্তাহীনতারই বহিঃপ্রকাশ, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
আগামী ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আনিসুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন দেশের গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক বা ‘ইনক্লুসিভ’ করার আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর সুপারিশ করেন এনডিএফ প্রধান।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির (একাংশ) মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু, জেপির মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম এবং এনডিএফের প্রধান সমন্বয়কারী গোলাম সরোয়ার মিলন।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন রাজধানীর সড়কে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। বর্তমানে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
Analysis | Habibur Rahman