৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি রাত ২:২০ সোমবার গ্রীষ্মকাল
চোরাচালানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবহনের অভিযোগে ওমান উপসাগর থেকে একটি বিদেশি ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে ইরান। জব্দকৃত ওই জাহাজের ক্রু বা নাবিকদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকরাও রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যম।

শুক্রবার (গতকাল) ইরানের হরমোজগান প্রদেশের উপকূলীয় এলাকা থেকে ট্যাঙ্কারটি আটক করা হয়। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজটিতে প্রায় ৬০ লাখ লিটার ডিজেল ছিল, যা অবৈধভাবে পাচার করা হচ্ছিল।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, নজরদারি এড়াতে এবং নিজেদের অবস্থান গোপন রাখতে জাহাজটির নেভিগেশন বা দিকনির্ণয় ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে শেষরক্ষা হয়নি, অভিযান চালিয়ে জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নেয় ইরানি বাহিনী।
জানা গেছে, জাহাজটিতে মোট ১৮ জন ক্রু অবস্থান করছিলেন। তাঁরা মূলত দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি দেশ—বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার নাগরিক। তবে আটককৃতদের মধ্যে ঠিক কতজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি তেহরান। এ ছাড়া ট্যাঙ্কারটি কোন দেশের মালিকানাধীন বা এর নাম কী, সে বিষয়েও ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি।
ইরানে জ্বালানি তেলের ওপর বিশাল অংকের সরকারি ভর্তুকি এবং স্থানীয় মুদ্রার দরপতনের কারণে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পাচারকারীরা স্থলপথে প্রতিবেশী দেশগুলোতে এবং সমুদ্রপথে উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোতে জ্বালানি পাচার করে থাকে, যা অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান সরকার দীর্ঘদিন ধরেই এই চোরাকারবার রোধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলার উপকূল থেকে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক একটি তেলবাহী জাহাজ আটকের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ইরান এই ট্যাঙ্কারটি জব্দ করল। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, ওই জাহাজটি ইরান ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল পরিবহন করছিল। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান এই অভিযান চালিয়েছে কি না, তা নিয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও, তেহরান জানিয়েছে—উপসাগরীয় জলসীমায় অবৈধ জ্বালানি পরিবহন বন্ধেই তাদের এই নিয়মিত তৎপরতা।
Analysis | Habibur Rahman