.
আন্তর্জাতিক

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও ট্রাম্পের চাপ উপেক্ষা করেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধাপরাধের বিচার চালিয়ে যাবে আইসিসি

Email :48

১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ১২:০২ সোমবার বসন্তকাল

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও নজিরবিহীন চাপ সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারক ও কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধাপরাধ মামলার কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। ২০২৫ সালের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে আরোপিত এসব নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করেই নিজেদের আইনি সিদ্ধান্তে অটল থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ও ধরণ
চলতি বছরের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি এবং ছয়জন বিচারকসহ মোট নয়জন শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এই পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থায় তাঁদের প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা, অনলাইন পেমেন্ট এবং দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি, তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় তাঁরা এখন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মতো ব্যক্তিদের কাতারে স্থান পেয়েছেন।

সংঘাতের কারণ
হোয়াইট হাউস এই নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিকতা হিসেবে দাবি করেছে যে, আইসিসি অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। মূলত গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট এবং এক শীর্ষ হামাস নেতার বিরুদ্ধে আইসিসি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পরই ওয়াশিংটন এই কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এছাড়া আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আইসিসির তদন্তের বিষয়টিও এই উত্তেজনার অন্যতম কারণ।

বিচারকদের অবস্থান ও আইসিসির প্রতিক্রিয়া
নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া বিচারকরা জানিয়েছেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ভ্রমণ সংক্রান্ত জটিলতায় তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের ব্যক্তিগত জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তবে এত কিছুর পরেও তাঁরা পিছু হটতে নারাজ। তাঁরা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, রোম সংবিধি (Rome Statute) অনুযায়ী আদালতের কাজ চলবে এবং কোনো বাহ্যিক চাপে তাঁরা বিচারিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন না।

আইসিসি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ফ্রান্স এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন আচরণ ইউক্রেনসহ বিশ্বজুড়ে গুরুতর অপরাধের বিচার ও জবাবদিহিতার প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

কূটনৈতিক চাপ ও পাল্টাপাল্টি অবস্থান
ওয়াশিংটন কেবল নিষেধাজ্ঞাই নয়, বরং হুমকি দিয়েছে যে আইসিসি যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প বা মার্কিন নাগরিকদের বিচারের আওতামুক্ত না রাখে, তবে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে রোম সংবিধি সংশোধন করে নন-মেম্বার দেশের নাগরিকদের বিচার থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে, যা কার্যত আমেরিকান ও ইসরায়েলিদের সুরক্ষা দেবে। তবে হেগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সদস্য রাষ্ট্রগুলো এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আদালতের স্বাধীনতার পক্ষে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

ইসরায়েলি নেতারা আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানিয়েছেন। এর বিপরীতে, ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো অভিযোগ করেছে যে, গাজা ও অধিকৃত অঞ্চলে সংঘটিত অপরাধের বিচার বাধাগ্রস্ত করতেই যুক্তরাষ্ট্র এই নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি করছে।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts