.
আন্তর্জাতিক

গাজায় ‘বায়রন’ ঝড়ের হানা: শীতে জমে শিশুর মৃত্যু, সীমান্তে আটকে হাজারো ত্রাণবাহী ট্রাক

Email :55

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় এবার প্রকৃতির রুদ্ররোষ। তীব্র শীতকালীন ঝড় ‘বায়রন’-এর আঘাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ফিলিস্তিনি উপত্যকা। হাড়কাঁপানো ঠান্ডা আর অবিরাম বৃষ্টির কবলে পড়ে খান ইউনিসের এক জরাজীর্ণ তাঁবুতে প্রাণ হারিয়েছে আট মাসের শিশু রাহাফ আবু জাজার। মানবিক এই বিপর্যয়ের মধ্যেও ইসরায়েলি অবরোধের কারণে সীমান্তে আটকে আছে জীবনরক্ষাকারী হাজারো ত্রাণবাহী ট্রাক।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাতে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে। শিশু রাহাফের মা হিজার আবু জাজারের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, রাতে সন্তানকে খাইয়ে ঘুম পাড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বৃষ্টির তোড় আর তাঁবু ভেদ করে আসা হিমশীতল বাতাসের তীব্রতায় শেষরক্ষা হয়নি। ভিজে যাওয়া বিছানায় ঠান্ডায় জমে গিয়েই শিশুটির মৃত্যু হয়।

গাজার সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝড়ের তাণ্ডবে গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের কাছে আড়াই হাজারের বেশি জরুরি সাহায্যের ফোনকল এসেছে। গাজা সিটিতে অন্তত তিনটি ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা জলোচ্ছ্বাস ও ঝোড়ো বাতাসের ভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। আল জাজিরার প্রতিনিধি হানি মাহমুদ বর্তমান পরিস্থিতিকে গাজাবাসীর জন্য ‘প্রকৃতির বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এদিকে, চরম এই আবহাওয়ায় গাজাবাসীর দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞা। মানবাধিকার সংস্থা বি’তসেলেম জানিয়েছে, শীতবস্ত্র, কম্বল ও তাঁবু বোঝাই প্রায় সাড়ে ৬ হাজার ট্রাক ইসরায়েলের অনুমতির অপেক্ষায় সীমান্তে আটকে আছে। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের (এনআরসি) তথ্যানুযায়ী, গাজায় প্রায় ১২ লাখ ৯০ হাজার মানুষের জরুরি আশ্রয় প্রয়োজন, অথচ গত অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ১৫ হাজার ৬০০টি তাঁবু প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য।

ইউনিসেফ প্যালেস্টাইনের যোগাযোগ প্রধান জোনাথন ক্রিক্স সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতির ভয়াবহতা বর্ণনাতীত। শিশুদের খালি পায়ে কাদা ও জমা পানিতে হাঁটতে হচ্ছে, যা ডায়রিয়াসহ নানাবিধ পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র ফারহান হক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, জরুরি ভিত্তিতে উষ্ণ পোশাক ও আশ্রয় সামগ্রী পৌঁছাতে না পারলে হাইপোথার্মিয়ায় (তীব্র শীতে শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়া) আরও অনেক শিশুর মৃত্যু হতে পারে।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts