১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১০:২০ সোমবার বসন্তকাল
হাড়কাঁপানো শীত, বরফে ঢাকা দুর্গম পাহাড়ি পথ, আর বেলা দুইটা বাজলেই বিদায় নেয় সূর্যের আলো—কাজাখস্তানের এমন প্রতিকূল পরিবেশেই চিত্রায়িত হলো ‘দম’ সিনেমার প্রথম লট। তবে সব চ্যালেঞ্জকে ছাপিয়ে গেছে সিনেমার প্রধান অভিনেতা আফরান নিশোর অদম্য জেদ। শুটিংয়ের একপর্যায়ে পাহাড়ি পথে হাত কেটে রক্ত ঝরলেও ক্যামেরা থামাননি তিনি। ব্যান্ডেজ বাঁধা হাতেই চালিয়ে গেছেন শুটিং, কারণ তার কাছে তখন শারীরিক যন্ত্রণার চেয়েও বড় ছিল পুরো টিমের প্রতি দায়বদ্ধতা।

রক্তাক্ত হাত, অটুট মনোবল
সিনেমার পরিচালক রেদওয়ান রনির ভাষ্যমতে, কাজাখস্তানের লোকেশনগুলো এতটাই দুর্গম ছিল যে চাইলেই তাৎক্ষণিক উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়া সম্ভব ছিল না। একদিন শুটিংয়ের সময় পাহাড়ের মোড় ঘুরতে গিয়ে পাথরের আঘাতে হাত কেটে যায় নিশোর। সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে শুটিং প্যাকআপ হওয়ার কথা। কিন্তু নিশো বিশ্রাম না নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ব্যান্ডেজ হাতেই আবার শটের জন্য প্রস্তুত হন। পরিচালকের কথায়, “এই সিনেমার জন্য শিল্পীরা যেভাবে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছেন, তা সচরাচর দেখা যায় না।”
প্রতিবন্ধকতা যখন অনুপ্রেরণা
সম্প্রতি দেশে ফিরে নিজের জন্মদিনে ভক্তদের সঙ্গে এই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেন নিশো। তিনি বলেন, “সেখানে বেলা দুইটার পর আর সূর্যের আলো থাকত না। তাই সকাল থেকেই আমাদের দৌড় শুরু হতো। আমার হাত কাটার ঘটনাটি তখন গৌণ মনে হয়েছে, কারণ আমি টিম লিড করছিলাম। ১০ মিনিটের বিরতি মানেই পুরো দিনের শিডিউল বিপর্যয়। গর্বের বিষয় হলো, এত বাধার পরেও আমরা একদিনও বাড়তি শিডিউল নেইনি।”
নতুন এক সারভাইভাল ড্রামা
‘দম’ সিনেমার গল্প নিয়ে এখনই সবটা খোলাসা করতে চান না নির্মাতা। তবে এটি যে সত্য ঘটনা অবলম্বনে একটি ‘সারভাইভাল ড্রামা’, তা নিশ্চিত করেছেন রনি। তিনি বলেন, “এটি একজন সাধারণ মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প, তার ভেতরের সুপ্ত শক্তির গল্প।” সৌদি আরব বা জর্ডানের বদলে কাজাখস্তানকে বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে গল্পের প্রয়োজনে দুর্গম পরিবেশকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
আগামীর পরিকল্পনা
কাজাখস্তান পর্ব শেষে এখন দেশে শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে ‘দম’ টিম। আফরান নিশোর সঙ্গে এই সিনেমায় জুটি বেঁধেছেন পূজা চেরী, আর গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে চঞ্চল চৌধুরীকে—যা দর্শকদের জন্য নিঃসন্দেহে নতুন এক সমীকরণ। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী রোজার ঈদে বড় পর্দায় মুক্তি পাবে এই বিগ বাজেটের সিনেমাটি। নিশোর আত্মবিশ্বাসী উক্তি, “দর্শক সিনেমাটি দেখে গর্ব করে বলবে—এটা বাংলাদেশের সিনেমা।”
Analysis | Habibur Rahman