১৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি বিকাল ৩:৪৪ সোমবার শরৎকাল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা রিট আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিতে আপাতত কোনো আইনি বাধা রইল না।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটটি ‘উত্থাপিত হয়নি’ (Not Pressed) মর্মে খারিজের আদেশ দেন।
আদালতে যা ঘটল
নির্বাচন আয়োজনের তোড়জোড়ের মধ্যেই গত ৩ ডিসেম্বর রাজনৈতিক দল ‘বাংলাদেশ কংগ্রেস’-এর পক্ষ থেকে রিটটি দায়ের করেছিলেন দলটির মহাসচিব ও আইনজীবী মো. ইয়ারুল ইসলাম। সোমবার সকালে রিটটি শুনানির জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হলে, বিচারকরা মঙ্গলবার শুনানির দিন ধার্য করেন। তবে বিকেলের দিকে হঠাৎ মত পাল্টান রিটকারী আইনজীবী। তিনি বিকেল চারটার দিকে আদালতে গিয়ে রিটটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আরজি জানান। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই আদালত রিটটি খারিজ করে দেন।
রিটকারীর ব্যাখ্যা
হঠাৎ রিট প্রত্যাহার বা উত্থাপন না করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আইনজীবী মো. ইয়ারুল ইসলাম জানান, আদালত মনে করছেন দেশে বর্তমানে নির্বাচনের একটি পরিবেশ তৈরি হচ্ছে এবং প্রস্তুতি চলছে। তাই এই মুহূর্তে এমন মামলা বা রিট করার উপযুক্ত সময় নয়। আদালতের এই মনোভাব এবং দেশের ‘বৃহত্তর স্বার্থ’ বিবেচনায় তিনি রিটটি আর এগিয়ে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, যেহেতু ‘উত্থাপন করা হয়নি’ মর্মে খারিজ হয়েছে, তাই এই রিটটির আর কোনো কার্যকারিতা নেই।
রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসানও রিট খারিজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নির্বাচনী প্রস্তুতি
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকার আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদের ওপর গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নির্বাচন স্থগিতের রিটটি খারিজ হয়ে যাওয়ায় ইসির কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Analysis | Habibur Rahman
