৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি সন্ধ্যা ৬:০১ শুক্রবার গ্রীষ্মকাল
দীর্ঘদিনের জল্পনা আর জনমনে দানা বাঁধা তীব্র উৎকণ্ঠার অবসান হলো। অবশেষে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেলেন তার বোন ডা. উজমা খান। কারাগার থেকে বেরিয়ে তিনি নিশ্চিত করেছেন, ইমরান খান জীবিত এবং শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন। তবে একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ তুলেছেন, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে কারাগারে ‘মানসিক নির্যাতন’-এর শিকার হতে হচ্ছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইমরান খানের সঙ্গে তার আইনজীবী কিংবা পরিবারের সদস্যদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছিল না। এই দীর্ঘ যোগাযোগবিচ্ছিন্নতার সুযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল নানা ভিত্তিহীন খবর। এমনকি ইমরান খান গুরুতর অসুস্থ বা মারা গেছেন—এমন গুজবও রটে যায়, যা পিটিআই কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে চরম অস্থিরতা তৈরি করে। মূলত এই ধোঁয়াশা কাটাতেই বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে ডা. উজমা খান কারাগারে তার ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান।
সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. উজমা খান স্পষ্ট ভাষায় জানান, ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে যে ‘মৃত্যুর গুজব’ ছড়ানো হয়েছিল, তার কোনো ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, “ইমরান খান শারীরিকভাবে ফিট আছেন এবং ভালো আছেন।” তার এই বক্তব্যে পিটিআই সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এলেও, তার পরের বক্তব্য নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
শারীরিক সুস্থতার কথা জানালেও ডা. উজমা অভিযোগ করেন, ইমরান খানকে মানসিকভাবে ভেঙে ফেলার চেষ্টা চলছে। তিনি দাবি করেন, ইমরানকে একটি নির্জন সেলে বা ‘সলিটারি কনফাইনমেন্টে’ আটকে রাখা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে তাকে পরিবার, আইনজীবী ও রাজনৈতিক সহযোগীদের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে, যা এক ধরনের গভীর ‘মানসিক নির্যাতন’। এই একাকীত্বের মাধ্যমে তাকে মানসিকভাবে দুর্বল করার কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন তার বোন।
ইমরান খানের দল পিটিআই-এর দাবি, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কারা কর্তৃপক্ষ গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নানা অজুহাতে সাক্ষাতের অনুমতি আটকে রেখেছিল, যা ইচ্ছাকৃতভাবে গুজব ও আতঙ্ক ছড়াতে সহায়তা করেছে। অন্যদিকে, কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রটোকলের কারণেই সাক্ষাতে কিছু সাময়িক কড়াকড়ি ছিল। তবে তার প্রাণহানি বা অসুস্থতা নিয়ে যে খবর চাউর হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ অসত্য বলে দাবি করেছে তারা।
বোন উজমা খানের এই সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে ইমরান খানের ‘বেঁচে থাকা’ বা সুস্থ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে আদিয়ালা কারাগারের চার দেয়ালের ভেতর তিনি যে চরম একাকীত্ব ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন, সেই চিত্রটিই এখন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।

