১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ৬:৪৩ সোমবার বসন্তকাল
সাভারের বিরুলিয়ায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সবুজ গালিচায় দিনটি ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। নকআউট পর্বের চাপ, গোলপোস্টে বল লেগে ফিরে আসা আর টাইব্রেকারের লটারি—সব মিলিয়ে জমজমাট এক দিন পার করল বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল। ইস্পাহানি-প্রথম আলো আন্তবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবলের তৃতীয় আসরে নিজেদের প্রথম বাধা টপকে উল্লাসে মেতেছে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি।
দিনের তিনটি ম্যাচের দুটির ভাগ্যই নির্ধারিত হয়েছে টাইব্রেকারে। পেনাল্টি শুটআউটের কঠিন পরীক্ষায় উতরে গেছে সোনারগাঁও ও ব্র্যাক। অন্যদিকে নির্ধারিত সময়েই প্রতিপক্ষকে হারিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর।
দিনের একমাত্র ফল নির্ধারণী ম্যাচে ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্সকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে গত আসরের সেমিফাইনালিস্ট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। দলের নিয়মিত তারকা ও প্রথম আসরের সেরা খেলোয়াড় মাহমুদুল হাসান কিরণ পরীক্ষার কারণে এদিন মাঠে ছিলেন না। তবে তাঁর অভাব বুঝতে দেননি সতীর্থরা।
ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার মাত্র ১৭ সেকেন্ডের মাথায় গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জাহাঙ্গীরনগরের স্ট্রাইকার ওয়াদুদ আহমেদ সিজান। এটিই চলতি আসরের এখন পর্যন্ত দ্রুততম গোল। স্কলার্সের জুয়েল রানা ১৭ মিনিটে গোল শোধ করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে সিজান নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এবং রাকিবুল হক দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করে জয় নিশ্চিত করেন। ম্যাচসেরা হন জোড়া গোল করা সিজান।
দিনের প্রথম ম্যাচেই দেখা মেলে টাইব্রেকার রোমাঞ্চের। সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) মধ্যকার ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে অমীমাংসিত ছিল। সোনারগাঁওয়ের নাজিম উদ্দিন পেনাল্টি থেকে গোল করার পর বিইউবিটির রাহাত খান গোল শোধ করেন।
ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে নায়ক হয়ে ওঠেন সোনারগাঁওয়ের গোলরক্ষক জয় চক্রবর্তী। পেশাদার লিগে খেলার অভিজ্ঞতা থাকা নোয়াখালীর এই তরুণ প্রতিপক্ষের দুটি শট ঠেকিয়ে দেন। জয়ের গ্লাভসে ভর করে ৪-২ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় সোনারগাঁও। জয়ের আত্মবিশ্বাস, ‘সতীর্থদের কথা দিয়েছিলাম সেভ করব, সেটা করতে পেরে দারুণ লাগছে।’
দিনের শেষ ম্যাচে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির লড়াই ছিল সমানে সমান। নির্ধারিত ৭০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর নাটকীয়তা গড়ায় টাইব্রেকারে। শুটআউটের ঠিক আগমুহূর্তে গোলরক্ষক পরিবর্তনের এক কৌশলী সিদ্ধান্ত নেয় ব্র্যাক।
তবে ভাগ্য সহায় ছিল না ঢাকা আবাহনীর সাবেক তারকা সাইফুলের কোচিংয়ে খেলা ইস্ট ওয়েস্টের। তাদের দুটি শট গোলপোস্ট ও ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। অন্যদিকে ব্র্যাক টানা চারটি শট জালে জড়িয়ে ৪-২ ব্যবধানের জয়ে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করে। ব্র্যাকের জয়ে নেতৃত্ব দেন ম্যাচসেরা মিডফিল্ডার ওয়াসি ইতমাম আঞ্জুম।
খেলা শেষে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জাহিদ হাসান এমিলি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের প্রশংসা করে এমিলি বলেন, ‘হার-জিত খেলার অংশ। তবে প্রতিটি দল যেভাবে লড়াই করেছে, তা বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবলের জন্য ইতিবাচক বার্তা।’
Analysis | Habibur Rahman




