১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ৬:৪৩ সোমবার বসন্তকাল
অন্যদের জীবন বাঁচাতে যিনি সদা তৎপর ছিলেন, শেষ পর্যন্ত ডেঙ্গুর ভয়াবহ ছোবলের কাছে হার মানতে হলো তাঁকেই। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন কুমিল্লার প্রখ্যাত গাইনি ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফাহমিদা আজিম (৫২)।
রাজধানীর গুলশানের একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় রোববার (আজ) ভোর ৫টা ২৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে কুমিল্লার চিকিৎসা অঙ্গনসহ স্থানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডা. ফাহমিদা আজিম কুমিল্লার ঝাউতলা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ময়নামতি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক এবং নগর মাতৃসদন কুমিল্লার কনসালট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এছাড়া নিজ বাড়িতে ‘রেইনবো ম্যাটারনিটি ক্লিনিক’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন তিনি।

ছবি: ফেসবুক থেকে
নিহতের বড় ভাই মনজুরুল আজিম জানান, কিছুদিন আগে ডা. ফাহমিদা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। শুরুতে কুমিল্লায় চিকিৎসা চললেও তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। ডেঙ্গুর প্রভাবে তাঁর লিভার ও কিডনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
তিনি আরও জানান, গুলশানের ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। প্রথমে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে রোববার ভোরে তিনি মারা যান।
ডা. ফাহমিদা আজিমের বাল্যবন্ধু ও কুমিল্লার বিশিষ্ট ইতিহাস গবেষক আহসানুল কবীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘ফাহমিদা কেবল একজন চিকিৎসকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন মানবিক মানুষ। তাঁর মৃত্যু আমাদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।’
স্বজনরা জানিয়েছেন, ডা. ফাহমিদার একমাত্র মেয়ে বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন। মেয়ে দেশে ফেরার পর আগামী বৃহস্পতিবার ডা. ফাহমিদার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। ততক্ষণ পর্যন্ত মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষণ করা হবে।
Analysis | Habibur Rahman


