.
অন্যান্য

২০২৫-২৬ সালে রেকর্ড শস্য উৎপাদন! খাদ্যের দাম কি কমবে?

Email :80

১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি রাত ১২:৩৯ মঙ্গলবার গ্রীষ্মকাল

দীর্ঘ তিন বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে বিশ্ব খাদ্য বাজারে অবশেষে স্বস্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইনস কাউন্সিলের (আইজিসি) সাম্প্রতিক ‘গ্রেইন মার্কেট রিপোর্ট’ অনুযায়ী, ২০২১-২২ মৌসুমের পর এই প্রথম বিশ্বব্যাপী শস্যের মজুদ বাড়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস বলছে, আসন্ন ২০২৫-২৬ মৌসুমে বিশ্বজুড়ে দানাদার শস্যের মজুদ ৫ শতাংশ বেড়ে ৬১ কোটি ৯০ লাখ টনের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারে।


আইজিসির তথ্যমতে, এই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হতে যাচ্ছে গম এবং ভুট্টার বাম্পার ফলন। চলতি মৌসুমে বিশ্বব্যাপী গমের উৎপাদন ৮৩ কোটি টনে পৌঁছাতে পারে, যা গত মৌসুমের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ বা ৩ কোটি ১০ লাখ টন বেশি। একইভাবে, ভুট্টার উৎপাদনও ৫ শতাংশ বেড়ে ১২৯ কোটি ৮০ লাখ টনে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বের প্রধান রফতানিকারক দেশগুলোতে অনুকূল আবহাওয়া এবং ফলন বৃদ্ধির কারণে এই রেকর্ড সৃষ্টি হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


তবে দানাদার শস্যের এই উৎসবের মাঝে তেলবীজ, বিশেষ করে সয়াবিন নিয়ে দুঃসংবাদের পূর্বাভাস দিয়েছে আইজিসি। সংস্থাটি বলছে, আগামী মৌসুমে বিশ্বব্যাপী সয়াবিনের উৎপাদন ৩০ লাখ টন কমে ৪২ কোটি ৬০ লাখ টনে নেমে আসতে পারে। একইসাথে এশিয়া ও আমেরিকার বাজারে এর চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সয়াবিনের বৈশ্বিক মজুদ প্রায় ৫০ লাখ টন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী শস্যের ব্যবহারও ২ শতাংশ বাড়বে। মানুষ ও পশুখাদ্যের চাহিদা বৃদ্ধি এবং শিল্প খাতে ব্যবহারের প্রসারের কারণেই এই ঊর্ধ্বগতি। এর ফলে বিশ্ববাণিজ্যেও গতি আসবে। ধারণা করা হচ্ছে, শস্যের আমদানি-রফতানি ৪ শতাংশ বেড়ে ৪৪ কোটি ২০ লাখ টনে পৌঁছাবে। চালের ক্ষেত্রেও ১ শতাংশ চাহিদা বৃদ্ধি এবং ৪ শতাংশ বাণিজ্য বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
উৎপাদন বাড়লেও আইজিসির ‘গ্রেইনস অ্যান্ড অয়েলসিড প্রাইস ইনডেক্স’ বলছে ভিন্ন কথা। সয়াবিন, ভুট্টা এবং গমের রফতানি মূল্য (এফওবি) বাড়ার কারণে সূচকটি টানা দ্বিতীয় মাসের মতো বেড়ে ২২২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অর্থাৎ, সরবরাহ বাড়লেও বিশ্ববাজারে এখনই বড় ধরনের মূল্যহ্রাসের সম্ভাবনা কম।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts