১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি রাত ১:১৮ মঙ্গলবার গ্রীষ্মকাল
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যেই চট্টগ্রাম বিএনপির দুর্গ যেন ভেতর থেকেই নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। সরকারবিরোধী আন্দোলনের বদলে দলটির তৃণমূল এখন ব্যস্ত ‘ঘরের শত্রু’ দমনে। মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে সৃষ্ট তীব্র অসন্তোষে গত কয়েকদিন ধরে বন্দরনগরী ও এর আশেপাশের উপজেলাগুলো কার্যত বিক্ষুব্ধ জনপদ ও রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
অসন্তোষের আগ্নেয়গিরি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে। দলীয় হাইকমান্ড এই আসনে প্রার্থী হিসেবে সাবেক এমপি সরওয়ার জামাল নিজামের নাম ঘোষণার পর থেকেই ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, মাঠের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের পাশ কাটিয়ে জনবিচ্ছিন্ন এবং প্রভাবশালীদের হাতে দলীয় টিকিট তুলে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে নিয়মিত মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশে প্রকম্পিত হচ্ছে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী এলাকা। বিক্ষুব্ধদের একটাই দাবি—অবিলম্বে এই মনোনয়ন বাতিল করতে হবে।
দলীয় এই কোন্দলের সরাসরি ভুক্তভোগী হচ্ছেন সাধারণ জনগণ। মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাদের অনুসারীরা দাবি আদায়ে নিয়মিত চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করে রাখছেন। টায়ার জ্বালিয়ে ও ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা বন্ধ করায় সৃষ্টি হচ্ছে মাইলের পর মাইল দীর্ঘ যানজট। এতে স্থবির হয়ে পড়ছে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছালেও, দলীয় হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণে মরিয়া বিক্ষুব্ধ অংশটি পিছু হটতে নারাজ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় নেতার দাবি, এবারের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত কর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। বরং মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ এবং প্রভাবশালীদের লবিংয়ের কাছে নতি স্বীকার করেছে কেন্দ্র। এই ‘অনিয়ম ও ভ্রান্ত’ সিদ্ধান্তের কারণেই নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে দলকে এমন ভয়াবহ অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের মুখে পড়তে হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের মূল লড়াইয়ের আগেই নিজেদের মধ্যে এই কাদা ছোড়াছুড়ি বিএনপির ভোটের বাক্সে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দ্রুত এই বিভেদ মেটাতে না পারলে চট্টগ্রামে দলটির সাংগঠনিক শক্তি ভেঙে পড়ার এবং নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন খোদ তৃণমূলের কর্মীরাই।
Analysis | Habibur Rahman


