.
আন্তর্জাতিক

তাইওয়ান ইস্যুতে চীন-জাপান মুখোমুখি! এশিয়ায় কি নতুন যুদ্ধের দামামা?

Email :39

১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১০:২৪ সোমবার বসন্তকাল

তাইওয়ান প্রণালীর উত্তেজনা এবার সরাসরি আছড়ে পড়েছে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে। টোকিওর দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অস্পষ্টতা ভেঙে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর এক মন্তব্যের জেরে বেইজিং এখন চরম ক্ষুব্ধ। বিষয়টিকে নিছক দ্বিপাক্ষিক বাদানুবাদে সীমাবদ্ধ না রেখে চীন এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্রের কাছে জাপানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত জাপানি পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির একটি নীতিনির্ধারণী বক্তব্য থেকে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, তাইওয়ানের ওপর চীনা আগ্রাসন জাপানের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে গণ্য হবে এবং টোকিও সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করতে পারে। এর মাধ্যমে টোকিও এবং ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ান ইস্যুতে যে ‘কৌশলগত অস্পষ্টতা’ (Strategic Ambiguity) বজায় রেখেছিল, তা থেকে সরে আসার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় জাপান।


জাপানের এই অবস্থানকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ এবং ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করা হিসেবে দেখছে বেইজিং। জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ফু কং মহাসচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জাপানের বক্তব্যকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘মারাত্মক লঙ্ঘন’ বলে দাবি করেছেন। চিঠিতে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, জাপান যদি তাইওয়ান ইস্যুতে কোনো প্রকার ‘সশস্ত্র উসকানি’ বা হস্তক্ষেপে জড়ায়, তবে চীন জাতিসংঘের সনদের আওতায় আত্মরক্ষার স্বার্থে কঠোর ও চূড়ান্ত পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

কৌশলগতভাবে চীন এই চিঠি জাতিসংঘের সব সদস্য দেশের মধ্যে বিতরণ করছে, যার মূল লক্ষ্য হলো জাপানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় করা।


এই সংঘাত এখন আর কেবল কূটনৈতিক চিঠ চালাচালিতে সীমাবদ্ধ নেই, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দুই দেশের বিশাল অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কেও। বেইজিং কৌশলে জাপানের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস এবং যুদ্ধপরবর্তী জাতিসংঘে তাদের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে এনে টোকিওকে নৈতিকভাবে চাপে ফেলার চেষ্টা করছে। চীন মনে করিয়ে দিচ্ছে, অতীতের মতো বর্তমান জাপানি নীতিও আঞ্চলিক শান্তির জন্য হুমকি।


বেইজিংয়ের এত তোড়জোড় এবং ‘ভুল শুধরানোর’ দাবির পরও টোকিও তাদের অবস্থান থেকে একচুল নড়েনি বা মন্তব্য প্রত্যাহার করেনি। জাপান কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার কথা বললেও তাইওয়ান ইস্যুতে তাদের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট। আসন্ন ঐতিহাসিক বার্ষিকী এবং তাইওয়ান প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতির বিচারে এশিয়ায় দুই পরাশক্তির এই নতুন স্নায়ুযুদ্ধ আঞ্চলিক নিরাপত্তায় গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকটের জন্ম দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts