১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৫:১৭ সোমবার বসন্তকাল
ঢাকার মিরপুর কি তবে ফের অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে? পল্লবীর যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়ার নির্মম হত্যাকাণ্ড যেন সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে নতুন করে। নিছক রাজনৈতিক মতভেদ নয়, বরং কোটি টাকার চাঁদাবাজি আর মাদকের রমরমা ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেই যে এই ‘কিলিং মিশন’ সাজানো হয়েছিল, র্যাবের তদন্তে এবার বেরিয়ে এল সেই চাঞ্চল্যকর সত্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, এটি ছিল রীতিমতো টাকার বিনিময়ে সাজানো একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে, গোলাম কিবরিয়া কেবল পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিবই ছিলেন না, তিনি ছিলেন এলাকার অপরাধ জগতের এক বড় বাধা। মিরপুর কেন্দ্রিক একটি বিশেষ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির রামরাজত্ব কায়েম করতে চেয়েছিল। কিন্তু কিবরিয়া রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি এই অপকর্মগুলোর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন। আর এটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য। তদন্তকারীরা নিশ্চিত হয়েছেন, প্রতিপক্ষ গ্রুপটি নিজেদের আধিপত্য নিষ্কণ্টক করতে এবং মাদক বাণিজ্যের পথ পরিষ্কার করতে বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এই হত্যার ছক কষে।
ঘটনাটিকে শুরুতে রাজনৈতিক কোন্দল মনে করা হলেও, র্যাব জট খুলতে গিয়ে পেয়েছে ভিন্ন চিত্র। মূলত রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একটি পক্ষ অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছিল। কিবরিয়ার হত্যা ছিল সেই নিয়ন্ত্রণের লড়াইয়ের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মূল পরিকল্পনাকারী জেরায় স্বীকার করেছে যে, কিবরিয়াকে সরিয়ে দেওয়াই ছিল তাদের একমাত্র লক্ষ্য, যাতে ভবিষ্যতে তাদের সিন্ডিকেটের পথে কেউ বাধা হয়ে না দাঁড়াতে পারে।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ছায়াতদন্তে নামে র্যাব। তারই ধারাবাহিকতায় মিরপুর এলাকা থেকে এই ঘটনার মূল দুই হোতাকে আটক করতে সক্ষম হয় তারা। তাদের আটকের মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হলো মিরপুরের আন্ডারওয়ার্ল্ডের এক ভয়ানক চিত্র। তবে এলাকাবাসীর মনে এখনো আতঙ্ক—একজন রাজনৈতিক নেতাকে যদি এভাবে টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যা করা যায়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
এই হত্যাকাণ্ড আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, রাজনীতির আড়ালে লুকিয়ে থাকা অপরাধীরা কতটা বেপরোয়া হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, মূল হোতাদের গ্রেপ্তারের পর মিরপুরের এই সিন্ডিকেট পুরোপুরি নির্মূল হয় কি না।
Analysis | Habibur Rahman


