১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি রাত ১২:৩৫ মঙ্গলবার গ্রীষ্মকাল
মিরপুরের হোম অফ ক্রিকেটের বাতাস আজ যেন কিছুটা ভারাক্রান্ত, তবে তা বিষাদে নয়—গৌরব আর আনন্দে। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় আজ যুক্ত হলো এক নতুন অধ্যায়, যার একক নায়ক মুশফিকুর রহিম। দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০তম টেস্ট খেলার যে মাইলফলক তিনি স্পর্শ করলেন, বিসিবির রাজকীয় আয়োজনে তা রূপ নিল এক মহাকাব্যিক উদযাপনে।
শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় আজ মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল তিন প্রজন্মের ক্রিকেট। দৃশ্যটি ছিল অনেকটা সময়কে ফ্রেমে বন্দী করার মতো—২০০৫ সালে লর্ডসে যার নেতৃত্বে মুশফিকের টেস্ট অভিষেক হয়েছিল, সেই হাবিবুল বাশার সুমন পরম মমতায় মুশফিকের মাথায় পরিয়ে দিলেন শততম টেস্টের বিশেষ স্মারক ক্যাপ। ইতিহাসের আরেক সাক্ষী, দেশের অভিষেক টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম বুলবুল তার হাতে তুলে দিলেন বিশেষ জার্সি ও ক্রেস্ট। আকরাম খান থেকে শুরু করে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং বর্তমান সেনাপতি নাজমুল হোসেন শান্ত—সবাই যেন আজ মুশফিকের এই অর্জনের অংশীদার হতে এসেছিলেন।
তবে হাজার ওয়াটের ফ্লাডলাইট বা ক্যামেরার ফ্ল্যাশ নয়, আজকের অনুষ্ঠানের মূল আলো ছড়িয়েছে মুশফিকের মুখের সেই চিরচেনা চওড়া ও অমলিন হাসি। আর এই হাসির পেছনের কারিগররা উপস্থিত ছিলেন স্টেডিয়ামের ভিআইপি গ্যালারিতে। মুশফিকের বাবা মাহবুব হাবিব, মা রহিম খাতুন এবং সহধর্মিণী জান্নাতুল কিফায়াতকে দেখা গেল গর্বিত চোখে তাকিয়ে থাকতে।
আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে ২২ গজের লড়াকু মুশফিক হয়ে গেলেন নিতান্তই পরিবারের সেই অনুগত ছেলেটি। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি পরিবারকে নিজের জীবনের ‘বাতিঘর’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “মাঠের লড়াইয়ে আমি একা ব্যাট ধরলেও, আমার মানসিক শক্তি জোগান দিয়েছে আমার পরিবার।” বাবা-মায়ের স্বপ্ন আর স্ত্রীর ত্যাগের কথা স্মরণ করতে গিয়ে স্টেডিয়ামে পিনপতন নীরবতা নেমে আসে, যা মুহূর্তেই করতালিতে ভেসে যায়।
বিসিবির এই আয়োজন কেবল একটি পরিসংখ্যান উদযাপনের অনুষ্ঠান ছিল না; এটি ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটের টিকে থাকার, বড় হওয়ার এবং বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর গল্প, যার প্রতিচ্ছবি আজ দেখা গেছে মুশফিকুর রহিমের ১০০তম টেস্টের ক্যাপে।
Analysis | Habibur Rahman


