১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১০ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১১:৫৪ শনিবার বসন্তকাল
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পূর্ব ইউরোপে চলা উত্তেজনার পারদ এবার চরমে পৌঁছাল। পোল্যান্ডের একটি ব্যস্ততম রেলরুটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ এবং নাশকতার প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার সঙ্গে দেশটির কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রায় তলানিতে এসে ঠেকেছে। পোলিশ প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ঘটনাটিকে সরাসরি ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ বলে অভিহিত করেছেন এবং এর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে গদানস্ক শহরে অবস্থিত রাশিয়ার কনস্যুলেটটি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পোল্যান্ড সরকার।
পোলিশ নিরাপত্তা বাহিনীর তথ্যমতে, ঘটনাটি ঘটে ওয়ারশ থেকে লুবলিনগামী একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল রেল রুটে। মিকা নামক একটি গ্রামের কাছে রেললাইনের ওপর শক্তিশালী বিস্ফোরক পুঁতে রাখা হয়েছিল। দুর্বৃত্তদের মূল লক্ষ্য ছিল একটি যাত্রীবাহী ট্রেনকে উড়িয়ে দেওয়া। তবে ট্রেনের চালকের বুদ্ধিমত্তা ও দ্রুত ইমার্জেন্সি ব্রেক কষার কারণে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হওয়া বা বড় কোনো প্রাণহানি থেকে রক্ষা পায়। যদিও বিস্ফোরণে রেললাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনার তদন্তে নেমে পোলিশ গোয়েন্দারা চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন। তাদের দাবি, এই নাশকতার পেছনে সরাসরি হাত রয়েছে রুশ গোয়েন্দা সংস্থার। আরও অবাক করা বিষয় হলো, এই হামলার জন্য রাশিয়া নিজেদের নাগরিকদের ব্যবহার করেনি। অভিযোগ উঠেছে, রুশ গোয়েন্দাদের হয়ে ভাড়াটে হিসেবে কাজ করা দুই ইউক্রেনীয় নাগরিক এই বিস্ফোরক স্থাপনের কাজটি করেছিল। হামলার পরপরই অভিযুক্তরা সীমান্ত পেরিয়ে বেলারুশে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলে জানা গেছে।
এই ঘটনাকে পোল্যান্ডের জাতীয় নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে ওয়ারশ। পোলিশ প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক একে একটি পরিকল্পিত ও নজিরবিহীন ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ (State Terror) হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
এই ঘটনার কড়া জবাব দিতে পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কি গদানস্ক শহরে অবস্থিত রাশিয়ার কনস্যুলেটটি অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে পোল্যান্ডে রাশিয়ার কূটনৈতিক উপস্থিতি সংকুচিত হয়ে এখন শুধুমাত্র রাজধানী ওয়ারশ-এর দূতাবাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রইল। পোলিশ সরকারের মতে, যারা পোল্যান্ডের মাটিতে নাশকতা চালাবে, তাদের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব নয়।
যথারীতি মস্কো এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে পোল্যান্ডের এই সিদ্ধান্তকে ‘বিদ্বেষমূলক’ আখ্যা দিয়ে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে পশ্চিমা সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়। ইউক্রেনকে সহায়তা করার কারণে পোল্যান্ড ও ইউরোপের অন্যান্য দেশে অস্থিরতা তৈরি করতে রাশিয়া এখন ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ বা ছায়াযুদ্ধের কৌশল বেছে নিয়েছে। রেললাইন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা লজিস্টিক হাবগুলোতে হামলা চালিয়ে তারা পশ্চিমাদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
পোল্যান্ডের এই কঠোর সিদ্ধান্ত ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যকার উত্তেজনাকে নতুন কোনো সংঘাতের দিকে নিয়ে যায় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
- ভয়েস ওভার: খবরের শুরুটা একটু গম্ভীর ও সাসপেন্সপূর্ণ স্বরে শুরু করবেন।
- ফুটেজ: রেললাইনের ছবি, পোলিশ পুলিশের সাইরেন, ডোনাল্ড টাস্কের বক্তব্যের ফুটেজ এবং ম্যাপে ওয়ারশ থেকে লুবলিনের রুট দেখালে ভিডিওটি প্রাণবন্ত হবে।
Analysis | Habibur Rahman


