১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি রাত ১১:২৩ সোমবার বসন্তকাল
আসন্ন ১৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একটি মামলার সম্ভাব্য রায় ঘোষণার গুঞ্জনের মধ্যেই নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ দেশব্যাপী ‘লকডাউন’ বা ঘরবন্দি থাকার এক কর্মসূচি আহ্বান করেছে। এই কর্মসূচিকে ঘিরে নাশকতার আশঙ্কায় দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, চালানো হচ্ছে ব্যাপক গ্রেফতার অভিযান।
দলীয় সূত্রে এই কর্মসূচিকে ‘ইউনুস সরকারের দুঃশাসন থেকে মুক্তির প্রতীকী প্রতিবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হলেও, রাজনৈতিক অঙ্গনে এর পেছনের কারণ হিসেবে অন্য একটি বিষয় জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত খবরে ইঙ্গিত মিলেছে যে, ওই দিনই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান একটি মামলার রায় ট্রাইব্যুনালে ঘোষিত হতে পারে। এই রায়কে কেন্দ্র করেই মূলত রাজপথে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। তাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে, বিশেষ করে মহাসড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার জন্য বিশৃঙ্খলা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কিছু জায়গায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের মতো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাওয়া গেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই মধ্যে ঢাকা, কুমিল্লা, সাভার এবং ধামরাইসহ বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ৩০ জনেরও বেশি নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন যেকোনো ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ কঠোর হস্তে দমন করা হবে এবং নাশকতার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
সব মিলিয়ে, ১৩ নভেম্বরকে ঘিরে এক চাপা আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ বিরাজ করছে। একদিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি দলের রাজপথে নামার মরিয়া চেষ্টা, অন্যদিকে সরকারের কঠোর অবস্থান—এই দুইয়ের মধ্যে পড়ে সাধারণ মানুষের জনজীবন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই দিনটি একটি বড় ধরনের সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে, যা দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে আরও হুমকির মুখে ফেলবে।
Analysis | Habibur Rahman


