.
কক্সবাজার

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, একই পরিবারের ৫ জন নিহত | Cox’s Bazar Road Accident

Email :54

৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১১:৫৫ শুক্রবার গ্রীষ্মকাল

পর্যটন নগরী কক্সবাজারের পথে যখন হাজারো মানুষ ছুটে চলে আনন্দের খোঁজে, ঠিক তখনই একটি পরিবারের স্বপ্নযাত্রা এক নিমিষেই পরিণত হলো মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে। আজ, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫-এর সকালে চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসের বিধ্বংসী সংঘর্ষে মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় ব্যস্ত মহাসড়ক। এই দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসে থাকা একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের জীবনপ্রদীপ ঘটনাস্থলেই নিভে যায়, যা পুরো এলাকায় এক অবর্ণনীয় শোকের জন্ম দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সকালের দিকে কক্সবাজারগামী একটি মাইক্রোবাস ফাঁসিয়াখালী এলাকা অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং এর ভেতরে থাকা যাত্রীরা মারাত্মকভাবে আটকা পড়েন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা ছুটে আসেন এবং উদ্ধারকাজে হাত লাগান। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা এসে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। কিন্তু ততক্ষণে যা ঘটার, তা ঘটে গেছে। একই পরিবারের পাঁচজন সদস্যকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের আর্তনাদ আর উদ্ধারকারীদের ব্যস্ততায় ফাঁসিয়াখালীর সকালের শান্ত পরিবেশ মুহূর্তেই ভারী হয়ে ওঠে।

এই একটি ঘটনাই নয়, সম্প্রতি পাহাড় ধসসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে কক্সবাজার অঞ্চলের মানুষের মনে যে শঙ্কার মেঘ জমেছিল, ফাঁসিয়াখালীর এই দুর্ঘটনা তাকে আরও ঘনীভূত করেছে। একটি আনন্দভ্রমণ যে কতটা অপ্রত্যাশিতভাবে বিষাদে রূপ নিতে পারে, এই ঘটনাই তার জ্বলন্ত প্রমাণ।

এখন পর্যন্ত নিহতদের সম্পূর্ণ পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গোটা কক্সবাজারজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যে সড়ক ধরে মানুষ সাগরের গর্জন শুনতে যায়, সেই সড়কই আজ পাঁচটি প্রাণের শেষযাত্রার সাক্ষী হয়ে রইল। যে শূন্যতা আজ তৈরি হলো, তা হয়তো আর কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts