১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১০:২১ সোমবার বসন্তকাল
রাজধানীর উত্তর বাড্ডার একটি নিস্তব্ধ গলি। সেখানকার একটি ভবনের নিচতলার তালাবদ্ধ ঘর থেকে ভেসে আসা তীব্র দুর্গন্ধই সূত্রপাত ঘটাল এক মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির। এই দুর্গন্ধের সূত্র ধরেই উন্মোচিত হলো ভালোবাসার সম্পর্কে আবদ্ধ দুই তরুণ-তরুণীর নিথর, পচন ধরা দেহ। নিহতরা হলেন ভবনটির তত্ত্বাবধায়ক সাইফুল ইসলাম (২৪) এবং একই এলাকায় গৃহকর্মীর কাজ করা শাকিলা আক্তার (২০)।
ঘটনাটি কি ভালোবাসার করুণ পরিণতিতে আত্মহনন, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো ঠান্ডা মাথার খুনের ছক? এই প্রশ্নেই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে পুরো তদন্ত।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে বেশ নাটকীয়ভাবে। ভবনটির মালিক তার স্ত্রীর মৃত্যুর কারণে কিছুদিন ধরে গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। সম্প্রতি ঢাকায় ফিরে তিনি নিচতলার ওই অব্যবহৃত কক্ষটি পরিষ্কার করতে গেলেই স্তম্ভিত হয়ে যান। ঘরের ভেতরে পড়ে ছিল দুটি বিকৃত হয়ে যাওয়া লাশ, যা থেকে স্পষ্ট যে তাদের মৃত্যু হয়েছে বেশ কিছুদিন আগে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তদন্ত শুরু করে।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, নিহত সাইফুল ও শাকিলার মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা দুজনেই স্বপ্ন দেখতেন একসাথে ঘর বাঁধার। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্নের পরিসমাপ্তি ঘটলো এক রহস্যময় মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে এটিকে পরিকল্পিত অপরাধ হিসেবেই সন্দেহ করছে। মৃতদেহের অবস্থা এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি হত্যাকাণ্ডের দিকেই জোরালোভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে এবং নিহত শাকিলার মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে।
তবে পুলিশ এখনই কোনো একক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নারাজ। এটি আসলেই হত্যাকাণ্ড, নাকি কোনো অজানা ক্ষোভ বা অভিমানে দুজনের একযোগে আত্মহননের পথ বেছে নেওয়া—সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। কেন তাদের এই মর্মান্তিক পরিণতি হলো? তাদের ভালোবাসার সম্পর্কই কি তাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ালো? নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো অজানা শত্রুতা?
এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এবং রহস্যের জট খুলতে তদন্তকারীরা সবদিক খতিয়ে দেখছেন। সাইফুল ও শাকিলার এই করুণ পরিণতির পেছনের আসল সত্য উন্মোচন এখন কেবলই সময়ের অপেক্ষা, যার দিকে তাকিয়ে আছে সবাই।
Analysis | Habibur Rahman

