১৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি সন্ধ্যা ৬:৪১ সোমবার শরৎকাল
পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে মা চলে যাওয়ার শোক যেন সইতে পারলেন না অসুস্থ ছেলে। মায়ের মৃত্যুর মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনিও পাড়ি জমালেন না ফেরার দেশে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সিপাইকান্দি গ্রামে। একই দিনে, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মা ও ছেলের এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতরা হলেন ওই গ্রামের মৃত দুধ মিয়ার স্ত্রী গুলবাহার বেগম (৮৫) এবং তাঁর একমাত্র ছেলে নলু মিজি (৬৫)।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন বৃদ্ধা গুলবাহার বেগম। সপ্তাহ দুয়েক আগে (১০-১৫ দিন) বাড়ির উঠানে হাঁটতে গিয়ে পড়ে গিয়ে তাঁর পা ভেঙে যায়। এরপর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
মায়ের এই মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি ক্যানসার আক্রান্ত একমাত্র ছেলে নলু মিজি। তিনি নিজেও দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারসহ একাধিক জটিল রোগে ভুগছিলেন। মায়ের মৃত্যুর খবরে মানসিকভাবে তিনি চরম ভেঙে পড়েন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে একটায়, মায়ের মৃত্যুর মাত্র ১০ ঘণ্টা পার হতে না হতেই তিনিও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গুলবাহার বেগম চার মেয়ে ও এক ছেলের জননী ছিলেন। অন্যদিকে, নলু মিজি মৃত্যুকালে তিন মেয়ে ও দুই ছেলে রেখে গেছেন।
নলু মিজির ভাগনে গোলাম নবী ও জিসান আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, নানির মৃত্যুর পর মামা প্রচণ্ড শোকাহত হয়ে পড়েছিলেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে নানি ও মামার বিদায়ে তাঁদের পরিবারের সবাই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। পরিবারে এখন শুধুই কান্নার রোল।
বৃহস্পতিবার জোহরের নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে গুলবাহার বেগমের দাফন সম্পন্ন হয়। একই দিন সন্ধ্যার পর জানাজা শেষে মায়ের কবরের পাশেই ছেলে নলু মিজিকে দাফন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, “আমরা মা ও ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি অবগত হয়েছি। এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। যেহেতু উভয়েই স্বাভাবিকভাবে (অসুস্থতাজনিত কারণে) মারা গেছেন, তাই এ নিয়ে থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।”
মা ও ছেলের এমন অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের নজির ও একই দিনে মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় গ্রামবাসী ও আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে গভীর শোক বিরাজ করছে।
Analysis | Habibur Rahman