.
খেলা

মহিলা কাবাডি বিশ্বকাপ ২০২৫: স্বাগতিক বাংলাদেশের পদক জয়ের স্বপ্ন ও রুপালির শেষ মিশন।

Email :114

৩১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৪ঠা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি দুপুর ১২:৪৩ শুক্রবার শরৎকাল

“কাবাডি, কাবাডি, কাবাডি”—মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামের কোর্টে যখন এই ধ্বনি উঠবে, তখন তা শুধু একটি খেলার ডাক হবে না, হবে একটি জাতির স্বপ্ন, এক অধিনায়কের বিদায়ী আর্তি এবং দেশের মাটিতে ইতিহাস গড়ার সম্মিলিত গর্জন। নভেম্বরের ১৭ তারিখ থেকে বাংলাদেশ আয়োজন করতে চলেছে ২য় মহিলা কাবাডি বিশ্বকাপের আসর, যা নিছক একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং দেশের নারী ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের মঞ্চ।


এই বিশ্ব আসরের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক রুপালি আক্তার। ২০০৯ সাল থেকে যিনি লাল-সবুজের জার্সিতে কাবাডি কোর্টের একনিষ্ঠ প্রহরী, তার জন্য এই বিশ্বকাপ এক আবেগঘন মুহূর্ত। কারণ এই টুর্নামেন্ট দিয়েই তিনি তার বর্ণাঢ্য খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি টানবেন। নিজ দেশের মাটিতে, হাজারো চেনা দর্শকের সামনে অধিনায়ক হিসেবে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচগুলো খেলার স্বপ্নপূরণ হতে চলেছে তার। রুপালির এই বিদায়ী মঞ্চকে একটি পদক দিয়ে স্মরণীয় করে রাখতে বদ্ধপরিকর পুরো দল।

দলের কোচ আরদুজ্জামান মুনশীর চোখেমুখেও সেই আত্মবিশ্বাসের ছাপ। প্রথম বিশ্বকাপে পঞ্চম স্থান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হলেও, এবার ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে তিনি অন্তত একটি পদক জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তার মতে, “এবার লক্ষ্য শুধু অংশগ্রহণ নয়, দেশের জন্য একটি পদক নিশ্চিত করা। মেয়েরা কঠোর পরিশ্রম করছে এবং তারা জানে এই সুযোগ কতটা বড়।”

এই বিশ্বকাপ আয়োজনকে দেখা হচ্ছে বাংলাদেশের নারী কাবাডির জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে। এতদিন পুরুষদের খেলা হিসেবে পরিচিত কাবাডিতে নারীদের অংশগ্রহণ এবং সাফল্যকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসার এটি এক সুবর্ণ সুযোগ। আশা করা হচ্ছে, এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে দেশজুড়ে যে উন্মাদনা তৈরি হবে, তা গ্রামের স্কুল থেকে শহরের ক্লাব পর্যন্ত নতুন প্রজন্মের মেয়েদের কাবাডির প্রতি আকৃষ্ট করবে এবং ভবিষ্যতের রুপালিদের খুঁজে বের করার পথ সুগম করবে।

সুতরাং, ১৭ থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকার ইনডোর স্টেডিয়ামে যা অনুষ্ঠিত হবে, তা শুধু কয়েকটি দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই নয়। এটি হবে অধিনায়ক রুপালির ১৬ বছরের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা, কোচ মুনশীর কৌশলের পরীক্ষা এবং বাংলাদেশের নারী কাবাডির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এক ঐতিহাসিক মঞ্চ। পুরো দেশের চোখ থাকবে কোর্টের দিকে, যেখানে প্রতিটি পয়েন্টের জন্য লড়াই করা মেয়েরা বয়ে বেড়াবে কোটি মানুষের স্বপ্ন।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts