
দীর্ঘদিনের অপেক্ষা… অবশেষে কি শেষ হতে যাচ্ছে? বাংলাদেশিদের জন্য ভারত ভ্রমণ—
যা একসময় ছিল খুবই সহজ,
সেটাই গত কিছুদিন ধরে হয়ে উঠেছিল অনিশ্চয়তা আর জটিলতার প্রতীক।
তবে এখন মিলছে স্বস্তির খবর—
খুব শিগগিরই আবার চালু হতে পারে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে পাওয়া ইঙ্গিত অনুযায়ী,
আগামী ৬ মে থেকে বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে পারে।
একজন উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন— সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি মাসেই
এই দীর্ঘ অচলাবস্থার অবসান ঘটতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে
নরেন্দ্র মোদি-এর দপ্তর থেকে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন সরাসরি তদারকি করছেন
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও কাজ করছে,
যার নেতৃত্বে আছেন
শশী থারুর।
তিনি ইতোমধ্যে দুই দেশের সম্পর্ক দ্রুত স্বাভাবিক করার পক্ষে মত দিয়েছেন। এছাড়া ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা
অজিত দোভাল-এর প্রতিবেদনের ওপরও এই সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করছে।
বাংলাদেশের কূটনৈতিক ভূমিকা সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ড. খলিলুর রহমান ভারত সফর করেছেন। এই সফরে তিনি ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে
ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করার বিষয়ে একাধিক বৈঠক করেন। যা এই ইতিবাচক অগ্রগতির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত শুধু ভ্রমণকারীদের জন্যই নয়—
ব্যবসায়ীদের জন্যও বড় স্বস্তির খবর। কলকাতা-এর পার্ক স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকার ব্যবসায়ীরা
ইতোমধ্যেই আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। তাদের মতে— বাংলাদেশি পর্যটক ফিরলে
আবারও জমে উঠবে ব্যবসা।
বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর লাখো মানুষ
চিকিৎসা, কেনাকাটা এবং ভ্রমণের জন্য ভারতে যান।
ভিসা কার্যক্রম বন্ধ বা সীমিত থাকায়
দুই দেশই অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তাই এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়,
বরং এটি দুই দেশের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
এখন সব চোখ ৬ মে-র দিকে।
যদি সত্যিই ট্যুরিস্ট ভিসা আবার চালু হয়
তাহলে এটি হবে হাজারো মানুষের জন্য স্বস্তির খবর,
এবং দুই দেশের সম্পর্কের নতুন সূচনা।