.
আন্তর্জাতিক

বোন, আমার মেয়ের রক্তক্ষরণ হচ্ছে…’: ফ্লাইট বিপর্যয়ের মাঝে অসহায় বাবার আর্তনাদ

Email :53

৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি ভোর ৫:২৭ সোমবার গ্রীষ্মকাল

ভারতের বিমানবন্দরগুলোতে গত কয়েক দিন ধরে চলছে চরম অরাজকতা। দেশটির বৃহত্তম এয়ারলাইন ইন্ডিগোর ফ্লাইট শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে হাজার হাজার যাত্রী যখন ক্ষোভে ফুঁসছেন, ঠিক তখনই সামনে এলো এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। ফ্লাইট বিলম্বের কারণে বিমানবন্দরে আটকে পড়া এক অসহায় বাবা তার মেয়ের জন্য স্যানিটারি প্যাড চেয়ে হেল্প ডেস্কে আকুতি জানাচ্ছেন—এমন একটি ভিডিও এখন নেটদুনিয়ায় ভাইরাল।

মেয়ের জন্য স্যানিটারি প্যাড চাইছেন এক বাবাছবি: ভিনা জেইনের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া

বাবার করুণ আর্তি
গত ৫ ডিসেম্বর দিল্লি বিমানবন্দরে ধারণ করা বলে ধারণা করা ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ইন্ডিগোর ‘হেল্প ডেস্ক’ ঘিরে রেখেছে শতাধিক বিক্ষুব্ধ যাত্রী। তাদের ভিড় ঠেলে এক ব্যক্তিকে ডেস্কে দায়িত্বরত এক নারী কর্মীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য মরিয়া হয়ে টেবিলে চাপড় দিতে দেখা যায়।

বিক্ষোভ বা টিকেটের জন্য নয়, তার চিৎকার ছিল মেয়ের শারীরিক সুরক্ষার জন্য। চরম হতাশা আর অসহায়ত্ব নিয়ে ওই বাবাকে বলতে শোনা যায়, ‘বোন, আমার মেয়ের জন্য একটা (স্যানিটারি) প্যাড দিন… আমার মেয়ের রক্তক্ষরণ হচ্ছে, দয়া করে একটা প্যাড দিন।’

ভিডিওটিতে ওই বাবার শরীরী ভাষায় স্পষ্ট ফুটে উঠেছে দীর্ঘ অপেক্ষার ক্লান্তি আর মেয়ের কষ্ট সহ্য করতে না পারার যন্ত্রণা। ভিনা জেইন নামের এক এক্স (সাবেক টুইটার) ব্যবহারকারী ভিডিওটি শেয়ার করার পরপরই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনরা বলছেন, ফ্লাইট বাতিলের চেয়েও বড় বিপর্যয় হলো বিমানবন্দরে জরুরি পণ্য ও মানবিক সহযোগিতার এই অভাব।
ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ) সম্প্রতি পাইলট ও কেবিন ক্রুদের মানসিক চাপ কমাতে এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করতে নতুন বিধিমালা জারি করে। নভেম্বরে এই নিয়ম কার্যকর করতে গিয়েই বিপাকে পড়ে ইন্ডিগো। দিনে প্রায় ২ হাজার ৩০০টি ফ্লাইট পরিচালনা করা এই সংস্থার শিডিউল লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়।

দিল্লি, বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদের মতো ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের কারণে আটকা পড়েন অসংখ্য যাত্রী। অভিযোগ উঠেছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকেও যাত্রীরা খাবার, পানি এবং স্যানিটারি প্যাডের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পাননি।

যদিও পরিস্থিতি এখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে, কিন্তু একজন বাবার এই অসহায় হাহাকার ভারতের এভিয়েশন খাতের অব্যবস্থাপনার এক করুণ দলিল হয়ে রইল।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts