১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি রাত ১২:৩৪ মঙ্গলবার গ্রীষ্মকাল
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি মন্তব্য করেছেন, ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল ততই হিংস্র আচরণ শুরু করেছে। একইসঙ্গে তিনি চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে মজুরি বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (দুপুরে) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের স্টেশন রোড এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। মৌলভীবাজার-৪ আসনে এনসিপি ও ১১–দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশের সমর্থনে এই সভার আয়োজন করা হয়।

ভোটের পরিবেশ ও নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি
সমবেত ভোটার ও সমর্থকদের আশ্বস্ত করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘গত ১৭ বছর দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। তবে এবার সেই ভয়ের সংস্কৃতি দূর হবে। আমরা আপনাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছি, নির্বাচনের দিন আপনারা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যাবেন এবং পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। সেই সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমাদের ১১–দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পাহারায় থাকবে।’
আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের ‘ষড়যন্ত্র’ নিয়ে হুঁশিয়ারি
বক্তব্যে বিএনপির নাম উল্লেখ না করে দলটির শীর্ষ নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন এনসিপির এই মুখপাত্র। তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, যারা গত ১৭ বছর ধরে মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, সেই আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে একটি দলের শীর্ষ নেতারা নানা যুক্তি দেখাচ্ছেন। তারা বলছেন, আজ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হলে কাল তাদেরও নিষিদ্ধ করা হতে পারে। এই ভীতি থেকে তারা সন্ত্রাসীদের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেওয়া আর সন্ত্রাস করা—উভয়ই সমান অপরাধ। আপনারা যদি খুনি ও নিপীড়কদের শাস্তির বদলে তাদের রক্ষার চেষ্টা করেন, তবে বুঝতে হবে গত দেড় যুগের নির্যাতনের যে গল্প আপনারা শুনিয়েছেন, তা ছিল ভাওতাবাজি। জনগণ এবার ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধে ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেবে।’
চা-শ্রমিকদের জন্য ১০০ টাকা ঘণ্টা মজুরির ঘোষণা
মৌলভীবাজার অঞ্চলের বিশাল চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠীর উদ্দেশে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘চা-বাগানের শ্রমিকরা হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খেটেও ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত। বর্তমান মজুরিতে জীবন চালানো অসম্ভব। আমরা কথা দিচ্ছি, ১১–দলীয় জোট সরকার গঠন করলে চা-শ্রমিকদের ভূমির অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্ট উল্লেখ থাকবে—শ্রমিকদের মজুরি ঘণ্টা প্রতি ১০০ টাকা করতে হবে। আমরা বিজয়ী হলে আপনাদের জীবনমান উন্নয়নে এই দাবি বাস্তবায়ন করব।’
প্রীতম দাশের ত্যাগের স্বীকৃতি
এলাকার প্রার্থী প্রীতম দাশের পক্ষে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, ‘প্রীতম দাশ গত এক যুগ ধরে এই জনপদের মানুষের অধিকার আদায়ে লড়ছেন। শ্রমিকদের কথা বলতে গিয়ে তিনি জেল-জুলুম সহ্য করেছেন। আগামী ১২ তারিখ তাকে বিজয়ী করে সংসদে পাঠালে তিনি আরও শক্তিশালী হয়ে আপনাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে পারবেন।’
মামলা বাণিজ্য ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধে নাহিদ ইসলাম
পথসভায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও বক্তব্য রাখেন। তিনি বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘একটি দল সারা দেশে গায়েবি মামলা দিয়ে এতদিন বাণিজ্য করেছে। এখন ভোটের সময় তারা সেই মামলা তুলে নেওয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখাচ্ছে, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। তারা ৩১ দফা সংস্কারের কথা বলে নিজেরাই সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে।’
নাহিদ ইসলাম ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের বিভক্তির সুযোগে যেন কোনো চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী বা নব্য স্বৈরাচার ক্ষমতায় আসতে না পারে, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। সিলেট বিভাগের অসংখ্য প্রার্থীর মধ্য থেকে আমরা প্রীতম দাশকে বেছে নিয়েছি, কারণ তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে কারাবরণ করেছেন। কোনো সন্ত্রাসী বা সুবিধাবাদীর হাতে যেন এই আসনটি চলে না যায়, তা আপনাদেরই নিশ্চিত করতে হবে।’
Analysis | Habibur Rahman
