৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৪:১১ শুক্রবার গ্রীষ্মকাল
ঢাকা ও সিরাজগঞ্জে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজতে থাকা অবস্থায় দুই ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের বিশিষ্ট দুটি মানবাধিকার সংগঠন। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) পৃথক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে।
রোববার (আজ) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে সংগঠন দুটির নেতারা জানান, রাষ্ট্রীয় হেফাজতে মৃত্যু কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের ঘটনায় স্বচ্ছ জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) তাদের বিবৃতিতে ঢাকা ও সিরাজগঞ্জে যথাক্রমে মুক্তার হোসেন ও শাহাদত হোসেনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী—যেমন থানা পুলিশ, র্যাব, পিবিআই এবং ডিবির হেফাজতে অন্তত ১৫ জন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।
আসকের মতে, এই পরিসংখ্যান কেবল সংখ্যার বিচার নয়, বরং এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের চরম দায়িত্বহীনতা ও জবাবদিহির অভাবকে নির্দেশ করে। বিবৃতিতে বলা হয়, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাগুলো এই মৌলিক অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সংস্থাটি প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনার স্বাধীন ও বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতের দাবিও জানিয়েছে তারা।
অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) তাদের বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের অভিযোগের ওপর জোর দিয়েছে। স্বজনদের দাবি অনুযায়ী, ডিবি হেফাজতে নির্যাতনের কারণেই মুক্তার ও শাহাদতের মৃত্যু হয়েছে—এমন অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
এমএসএফের বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযুক্ত আসামি হলেও রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকাকালীন কোনো নাগরিকের মৃত্যু জনমনে ভীতির সঞ্চার করে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আস্থার সংকট তৈরি করে। গোয়েন্দা পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত। সংস্থাটি দাবি করেছে, পরিবারের অভিযোগ আমলে নিয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করতে হবে এবং জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
উভয় সংগঠনই মনে করে, রাষ্ট্রীয় হেফাজতে মৃত্যুর সংস্কৃতি বন্ধ করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই।
Analysis | Habibur Rahman