.
বাংলাদেশ

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকল্প সহায়ক রাশেদুলের ৬ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

Email :31

৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ১:১৭ শুক্রবার গ্রীষ্মকাল

 ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ প্রকল্পের অর্থে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের জেরে কঠোর অবস্থানে আদালত। প্রকল্পের প্রজেক্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট (পিএ) ও ফিল্ড সুপারভাইজার মো. রাশেদুল ইসলাম এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকাফাইল ছবি: প্রথম আলো।

রোববার (আজ) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম।

দুদকের অনুসন্ধান ও আদালতের পর্যবেক্ষণ

আদালত সূত্রে জানা যায়, মো. রাশেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগের অনুসন্ধান করছেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. রাসেল রনি। তদন্তের স্বার্থেই তিনি অভিযুক্তের ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করার আবেদন জানান।

দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাশেদুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ প্রকল্পের লাখ লাখ টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে সরিয়ে নিয়েছেন। চলমান অনুসন্ধানে দুদক জানতে পারে যে, অভিযুক্তরা তাদের ব্যাংক হিসাব থেকে এই অবৈধ অর্থ অন্যত্র সরিয়ে ফেলার বা পাচার করার চেষ্টা করছেন।

রাষ্ট্রীয় অর্থ সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ

দুদকের পক্ষ থেকে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, এখনই যদি এসব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ না করা হয়, তবে হিসাবগুলো থেকে অর্থ উত্তোলন বা স্থানান্তর হয়ে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। একবার সম্পদ বেহাত হয়ে গেলে বা পাচার হয়ে গেলে তা পুনরুদ্ধার করা আইনি প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়বে। তাই রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি রোধে এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অবিলম্বে হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা আবশ্যক।

আদালত দুদকের এই বক্তব্য আমলে নিয়ে রাশেদুল ইসলাম ও তার সংশ্লিষ্ট ছয়টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার আদেশ দেন। এই আদেশের ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই হিসাবগুলো থেকে কোনো প্রকার লেনদেন করা যাবে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মতো একটি ধর্মীয় ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের গণশিক্ষা প্রকল্পে এমন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় সংশ্লিষ্ট মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দুদক জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts