
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সর্বশেষ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কোনো চূড়ান্ত চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। প্রায় ২১ ঘণ্টা দীর্ঘ আলোচনার পরও দুই পক্ষ কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। তবে আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি—উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে আবারও বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিশ্লেষক হামিদ মির।
জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার (১২ এপ্রিল) রাতে একটি টেলিভিশন আলোচনায় হামিদ মির জানান, এই বৈঠককে পুরোপুরি ব্যর্থ বলা যাবে না, কারণ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক বা দুই দফা আলোচনায় সাধারণত বড় কোনো সমাধান আসে না।
তিনি আরও বলেন, “নতুন বৈঠকের সময় ও স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে আলোচনা চলমান থাকবে।”
আংশিক অগ্রগতি, তবে বড় সিদ্ধান্ত অনির্ধারিত
উভয় দেশের প্রতিনিধিদের সূত্রে জানা যায়, আলোচনার সময় কিছু বিষয়ে আংশিক ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে উভয় পক্ষকে নিজ নিজ সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করতে হয়েছে।
হামিদ মির জানান, আলোচনার এক পর্যায়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানি প্রতিনিধি মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং বিষয়গুলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দেন।
ইউরেনিয়াম ও হরমুজ প্রণালি ছিল মূল আলোচ্য
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। সূত্রগুলো দাবি করছে, এ দুটি ইস্যুতে একটি সম্ভাব্য “মধ্যপন্থা” বা উইন-উইন সমাধানের দিকে অগ্রগতি হয়েছে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে তার পারমাণবিক কর্মসূচিকে আলোচনার বাইরে রাখার অবস্থানে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিনিময়ে কিছু সীমাবদ্ধতা চায়।
লেবানন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান ইরানের
আলোচনার বড় একটি অংশ জুড়ে ছিল লেবাননের পরিস্থিতি। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, হিজবুল্লাহ ও হামাসের বিষয়ে তারা কোনো আপস করবে না।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়েছে এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েল–লেবানন আলোচনার সুযোগ তৈরির ইঙ্গিত দিয়েছে।
যুদ্ধবিরতি ও মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের ভূমিকা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে পাকিস্তান, তুরস্ক এবং চীন পরোক্ষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আলোচনার স্থায়িত্ব বাড়ানোর বিষয়েও এসব দেশের মধ্যস্থতা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদ এই কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।
কূটনীতি চলছে, কিন্তু সমাধান এখনও দূরে
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, “কূটনীতি কখনোই শেষ হয় না।” তার এই মন্তব্যকে আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে ইসলামাবাদের এই দীর্ঘ বৈঠক তাৎক্ষণিক কোনো চুক্তি আনতে না পারলেও ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ খোলা রেখেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার শুরু মাত্র—যার ফলাফল নির্ভর করবে পরবর্তী দফা আলোচনার ওপর।